গুদাম ভেঙে সার লুট করে নিয়ে গেলেন কৃষকরা

গুদাম ভেঙে সার লুট করে নিয়ে গেলেন কৃষকরা
ছবি: সংগৃহীত

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সার না পেয়ে ডিলারের গুদাম ভেঙে সার লুট করে নিয়ে গেছেন কৃষকরা। রোববার সকালের দিকে উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।

বিজ্ঞাপন

লুট হওয়া সার উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। কিছু সার কৃষকরা ফিরিয়ে দিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কৃষি বিভাগ।

জানা গেছে, চলতি আমন মৌসুমে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সারের নীরব সংকট চলছে। শিলখুড়ি ইউনিয়নের কৃষকদের অভিযোগ, তারা বারবার চেষ্টা করেও পর্যাপ্ত সার পাচ্ছিলেন না। ডিলাররা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে নির্ধারিত দামে সার না দিয়ে খোলা বাজারে বেশি দামে বিক্রি করছেন।

কৃষকদের অভিযোগ, শিলখুড়ি ইউনিয়নের সার ডিলার ‘শাহ আমানত ট্রেডার্স’ বরাদ্দের ৩৪০ বস্তা ইউরিয়া সার উত্তোলন করে গুদামে রাখেন। কৃষকরা বারবার ডিলারের গুদামে গিয়েও সার পাচ্ছিলেন না। ক্ষুব্ধ হয়ে রোববার সকালে স্থানীয় কৃষকরা গুদাম ভেঙে ইউরিয়া সার নিয়ে যান।

পরে খবর পেয়ে ভূরুঙ্গামারী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের অনুরোধে কিছু সার কৃষকরা ফেরত দিয়ে যান।

এ বিষয়ে ডিলার প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী তাইফুর রহমান মুকুলের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

ভূরুঙ্গামারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজিম উদ্দিন বলেন, ‘সার না পাওয়ার আশঙ্কা থেকে কৃষকরা গুদাম থেকে সার নিয়ে গেছেন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। কৃষকদের নিয়ে যাওয়া ১৯০ বস্তা সারের মধ্যে পুলিশের তৎপরতায় কিছু সার ফেরত পাওয়া গেছে। বাকি সার উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল জব্বার জানান, ‘ওই ইউনিয়নে ইউরিয়া সারের মোট বরাদ্দ ছিল ১ হাজার ৩২০ বস্তা। এর মধ্যে এবারের ৩৪০ বস্তা সার উত্তোলন করেছেন ওই ডিলার। ঘটনার দিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে সার বিতরণ চলাকালীন কিছু উশৃঙ্খল জনতা ডিলারের গুদাম ভেঙে ১৯০ বস্তা সার জোরপূর্বক নিয়ে যায়। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহায়তায় কিছু সার উদ্ধার করা হয়েছে।

ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেবনাথ বলেন, ‘আমি এবং সার্কেল এএসপি ঘটনাস্থলে আছি। লুট হওয়া সার উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

এমই

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন