রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় হিন্দুবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় আটক পাঁচজনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে আদালত। বুধবার গঙ্গাচড়া আমলী আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কৃষ্ণ কমল রায়ের আদালত এ আদেশ দেয়। তাদের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদনের ওপর আজ বৃহস্পতিবার আবার শুনানি হবে বলে জানা গেছে।
আটককৃতরা হলেন ইয়াসিন আলী (২৫), স্বাধীন মিয়া (২৮), আশরাফুল ইসলাম (২৮), আতিকুর রহমান আতিক (২৮) এবং সাদ্দাম হোসেন সেলিম।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, আসামিদের প্রত্যেকের ১০ দিন করে রিমান্ড চাওয়া হয়েছিল। তবে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। আজ রিমান্ডের আবেদনের ওপর শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
কোর্ট ইন্সপেক্টর আমিনুল ইসলাম জানান, গত রোববার গঙ্গাচড়ায় মহানবী (সা.)-কে ফেসবুকে কটূক্তির প্রতিবাদে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে তাৎক্ষণিক পুলিশ অভিযুক্ত রঞ্জন কুমার রায়কে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কিশোর সংশোধনাগারে পাঠায়। এরপর কিছু উত্তেজিত লোকজন হিন্দুবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। ওই ঘটনায় গত মঙ্গলবার ক্ষতিগ্রস্ত রবীন্দ্রনাথ রায় মামলা করেন। এরপর যৌথবাহিনীর সদস্যরা অভিযান চালিয়ে পাঁচ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করেন।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তক কর্মকর্তা গঙ্গাচড়া মডেল থানার ওসি আল ইমরান জানান, হিন্দুবাড়িতে হামলার ঘটনায় হওয়া মামলায় পাঁচজনকে আটক করেছে যৌথবাহিনী। যারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের আটকে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আটকদের অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে।
গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন, উপজেলার বেতগাড়ী ইউনিয়নের আলদাদপুর গ্রামে ধর্মীয় কটূক্তির অভিযোগে গত রোববার সন্ধ্যায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। এখন শান্তিপূর্ণ অবস্থা বিরাজ করছে।
রংপুর পুলিশ সুপার আবু সাইম আমার দেশকে জানান, হিন্দুবাড়িতে হামলার ঘটনায় যারা জড়িত তাদের গ্রেপ্তার করা হবে।
রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রবিউল ফয়সাল জানান, ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মঙ্গলবার মেরামত শুরু হয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

