জুলাই-আগস্ট গণআন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত শহীদ রবিউল ইসলাম রাহুলের পরিবারের দাবি, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে পরিবারের আর্থিক সংকট বিবেচনায় রাহুলের বড় ভাইয়ের কর্মসংস্থানেরও দাবি জানিয়েছেন তাঁর স্বজনরা।
রবিউল ইসলাম রাহুল দিনাজপুর সদর উপজেলার ফাজিলপুর ইউনিয়নের বিদুরশাহী গ্রামের বাসিন্দা মো. মুসলেম উদ্দিন ও ফরিদা বেগমের ছোট ছেলে। তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার কনিষ্ঠ।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচিতে দিনাজপুর শহরের জজ কোর্টসংলগ্ন কাচারির মোড়ে অংশ নেন রাহুল। এ সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। তার শরীরে ১৯টি গুলি লাগে বলে পরিবারের দাবি। আহত অবস্থায় প্রথমে তাঁকে দিনাজপুর জেনারেল হাসপাতালে এবং পরে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর বাড়ি ফিরলেও ৭ আগস্ট তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে আবারও তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে ৯ আগস্ট সন্ধ্যায় হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
রাহুলের বাবা মো. মুসলেম উদ্দিন বলেন, “আমার ছেলে দেশের জন্য জীবন দিয়েছে। সে তো আর ফিরে আসবে না। আমি শুধু চাই দেশ ভালো থাকুক।”
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “রাহুল হত্যার ঘটনায় আমার বড় ছেলে ফরিদুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা করেছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত ওই মামলায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। যারা আমার ছেলেকে গুলি করে হত্যা করেছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। মৃত্যুর আগে ছেলের হত্যাকারীদের বিচার দেখে যেতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, পরিবারের আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত দুর্বল। তাই সরকারের কাছে তাঁর বড় ছেলের জন্য একটি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানান। একই দাবি জানিয়েছেন রাহুলের মা ফরিদা বেগমও।
পরিবার জানায়, সাড়ে পাঁচ শতক জমির ওপর একটি বসতভিটা ছাড়া তাদের কোনো আবাদি জমি নেই। দীর্ঘদিন শহরে শাকসবজি ও পরে মাছ বিক্রি করে সংসার চালাতেন মুসলেম উদ্দিন। ছেলের মৃত্যুর পর মানসিক আঘাত ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে বর্তমানে তিনি আর কাজ করতে পারছেন না। তাঁর হৃদ্রোগের সমস্যাও দেখা দিয়েছে, ফলে পরিবারটি চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

