২ লাখ টাকার মাঠ ভরাট প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তে উপজেলা প্রশাসন

২ লাখ টাকার মাঠ ভরাট প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তে উপজেলা প্রশাসন

রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের তেঁতুলতলা উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাটে ২ লাখ টাকার উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা আলমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রবিউল ইসলাম রাসেলের বিরুদ্ধে দায়সারাভাবে কাজ বাস্তবায়নের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বর্ষা মৌসুমে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের মাঠে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ও চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হতো। এ পরিস্থিতি নিরসনে উপজেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করা হলে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রাক্কলনের ভিত্তিতে ইউনিয়ন উন্নয়ন সহায়তা তহবিল থেকে ২ লাখ টাকার একটি মাঠ ভরাট প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় আলমপুর ইউনিয়ন পরিষদ।

তবে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পরও মাঠের অবস্থার উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন হয়নি বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, প্রয়োজনীয় পরিমাণ মাটি না ফেলায় সামান্য বৃষ্টিতেই মাঠে আগের মতোই পানি জমে থাকছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয় মাঠের বিভিন্ন স্থানে এখনও হাঁটুপানি জমে রয়েছে। একই মাঠ ব্যবহারকারী তেঁতুলতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরও প্রতিদিন পানি মাড়িয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। মাঠে খেলাধুলা কিংবা অন্যান্য শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনাও ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আনিসুল হক বলেন, ‘মাঠে খুবই অল্প পরিমাণ মাটি ফেলা হয়েছে। আমার ধারণা, ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকার বেশি কাজ হয়নি।’

আরেক বাসিন্দা জোবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘২ লাখ টাকার কাজ হলে মাঠের এমন অবস্থা থাকার কথা নয়। বাস্তবে যে কাজ হয়েছে, তা বরাদ্দের সঙ্গে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।’

প্রকল্প ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘কাগজে-কলমে আমাকে সভাপতি করা হলেও প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। কীভাবে কাজ হয়েছে, সে সম্পর্কেও আমি অবগত নই।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আলমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রবিউল ইসলাম রাসেল। তিনি বলেন, ‘সরকারি বিধি-বিধান অনুসরণ করেই পুরো ২ লাখ টাকার কাজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। প্রকল্পে কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি। কেউ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব অভিযোগ তুলছেন।’

এ বিষয়ে তারাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনাব্বর হোসেন বলেন, ‘অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অনিয়ম বা কাজের গুণগত মানে কোনো অসঙ্গতি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রকল্পের বিল পরিশোধ করা হবে না।’

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন