গাইবান্ধার সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলার তিস্তামুখ নৌঘাটসহ একাধিক নৌ-রুটে অনিয়ন্ত্রিতভাবে যাত্রীভাড়া বাড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে গজারিয়া-পেপুলিয়াসহ অন্তত ১২টি নৌরুটে বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী যাত্রীরা। এতে নিয়মিত যাতায়াতকারী শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাঘাটা উপজেলার গজারিয়া ঘাট থেকে ফুলছড়ি ইউনিয়নের পেপুলিয়া, টেংরাকান্দি এবং সাঘাটার হলদিয়া, কানাইপাড়া, হাসিলকান্দী, পাতিলবাড়ী, দেলুয়াবাড়ী, ফজলুপুর ইউনিয়নের খাটিয়ামারী ও তালতলা এবং এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ইঞ্জিনচালিত নৌকায় যাত্রী পারাপার করা হয়। চরাঞ্চলের বিপুল জনগোষ্ঠীর যাতায়াতের অন্যতম ভরসা এই নৌপথগুলো।
যাত্রীদের অভিযোগ, গজারিয়া-পেপুলিয়া নৌপথে আগে জনপ্রতি ভাড়া নেওয়া হতো ৩০ টাকা। গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে তা বাড়িয়ে ৪০ টাকা করা হয়েছে। একইভাবে অন্যান্য ঘাটেও মনগড়া বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।
বর্তমানে পেপুলিয়া থেকে ফুলছড়ি ঘাটে ৪০ টাকা, খঞ্চাপাড়া থেকে ৬০ টাকা, ফজলুপুর ঘাট থেকে ৫০ টাকা, দেলুয়াবাড়ী থেকে ৫০ টাকা, বাগবাড়ী থেকে ৫০ টাকা, খোলাবাড়ী থেকে ৬০ টাকা, জিয়াডাঙ্গা থেকে ৪০ টাকা, এরেন্ডাবাড়ী থেকে ২০০ টাকা এবং মইন্যাঘাট থেকে ২০০ টাকা করে ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।
বাজে ফুলছড়ি এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী আকবর বলেন, আগে গজারিয়া থেকে পেপুলিয়া যেতে ৩০ টাকা ভাড়া দিতাম, এখন ৪০ টাকা দিতে হচ্ছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে খরচ বাড়া স্বাভাবিক, কিন্তু যাত্রীপ্রতি ১০ টাকা বাড়ানো কতটা যৌক্তিক, তা প্রশাসনের বিবেচনা করা দরকার।
সালমা বেগম নামে অপর এক যাত্রী বলেন, নদীতে পানি কম থাকলে নৌকায় যেতে চার থেকে পাঁচ মিনিট সময় লাগে, অথচ একই ভাড়া গুনতে হয়। এখন আবার নতুন করে ভাড়া বাড়ানোয় নিয়মিত যাতায়াতকারীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় একই ধরনের ক্ষোভ প্রকাশ করেন ফজলুপুর ইউনিয়নের সাদেক আলী এবং ফুলছড়ির মিজানুর রহমান ও ফরহাদ হোসেন।
বুড়াইল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান জানায়, পড়াশোনার জন্য প্রতিদিন নৌকায় যাতায়াত করতে হয়। প্রতিবার অতিরিক্ত ভাড়া মেটাতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের চরম হিমশিম খেতে হচ্ছে। তবে সাঘাটার কানাইপাড়া চরের বাসিন্দা শাহজাহান আলী জানান, তেলের দাম বাড়ার কারণে ভাড়া কিছুটা বেড়েছে এবং বাধ্য হয়ে তা মেনেই তারা চলাচল করছেন।
এনসিপির ফুলছড়ি উপজেলা আহ্বায়ক সেকেন্দার আলী বলেন, চরাঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম নৌকা। ঘাট মালিক ও মাঝিরা মনগড়া ভাড়া বাড়ালে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের কঠোর ভূমিকা রাখা জরুরি।
এদিকে ঘাটসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, একটি ট্রলারে প্রতিদিন প্রায় সাত লিটার ডিজেল লাগে। তেলের দাম বাড়ায় প্রতিদিন ট্রলারপ্রতি জ্বালানি খরচ ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
নৌকার মাঝি মোকছেদ ও মোরশেদ জানান, জ্বালানি তেলের পাশাপাশি নৌকা রক্ষণাবেক্ষণ খরচও বেড়েছে। তাছাড়া বর্তমানে নদীতে যাত্রী সংখ্যাও কম। এসব বাস্তবতা বিবেচনা করেই সর্বসম্মতিক্রমে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে।
তবে যাত্রীদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, এসব রুটে প্রতিদিন গড়ে ৫০০ থেকে ৬০০ যাত্রী চলাচল করেন। যাত্রীপ্রতি ১০ টাকা করে বেশি নিলে প্রতিদিন অতিরিক্ত আদায় হয় ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা। ফলে দৈনিক মাত্র ২০০ টাকা জ্বালানি খরচ বৃদ্ধির অজুহাতে কয়েক হাজার টাকা অতিরিক্ত আদায় নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও-অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

