ভারী যানবাহন চলাচলের নির্মিত গাইবান্ধার সাঘাটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটি সংস্কারের পরই ভেঙে পড়েছে। বাঁধটি ভেঙে যাওয়ায় হাইস্কুল এলাকা থেকে বটতলা হয়ে ডাকবাংলা বাজার পর্যন্ত চলাচলে চরম ভোগান্তি পেতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। এলাকার বাসিন্দারা জানান, সাঘাটার এই বন্যা নিয়ন্ত্রণ (ওয়াপদা) বাঁধটি দীর্ঘদিন থেকে সংস্কারের অভাবে বিভিন্ন স্থানে ধসে বেহাল দশায় পরিণত হয়েছিল।
সম্প্রতি পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে বাঁধটি সংস্কার করে। তবে সঠিকভাবে দেখভাল ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এটি আবার আগের মতোই জরাজীর্ণ রূপ ধারণ করছে। বাঁধের ওপর দিয়ে অবাধে ভারী ট্রাক্টর চলাচলের কারণে এখন সম্পূর্ণ ভেঙে খানাখন্দে ভরে গেছে । এখন পথচারীদেরও চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল জলিল অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন অবহেলিত থাকার পর সম্প্রতি পানি উন্নয়ন বোর্ড এই গুরুত্বপূর্ণ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটির সংস্কারকাজ করেও কোনো কাজ হলো না। আমাদের কষ্টই থেকে গেল।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, কোনো বাধা নিষেধ না থাকায় অবাধে বাঁধের ওপর দিয়ে মাটি ও বালুবাহী ভারী ট্রাক্টর বেপরোয়াভাবে চলাচল করছে। এতে বাঁধটি ধসে ও দেবে যাচ্ছে। বড় চাকার গাড়ি চলায় গভীর গর্ত আর ধুলো-কাদায় একাকার হয়ে পথচারী ও ছোটখাটো যানবাহনের চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বটতলা থেকে ডাকবাংলা বাজার পর্যন্ত এই বাঁধের বেশ কয়েকটি স্থান ইতোমধ্যে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যেকোনো মুহূর্তে বাঁধের বড় অংশ ধসে গিয়ে চলমান বর্ষা বা বন্যায় বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে বাঁধের ওপর দিয়ে ভারী ও অবৈধ ট্রাক্টর চলাচল বন্ধ করতে হবে এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো দ্রুত মেরামত করে বাঁধটি রক্ষায় কঠোর নজরদারির ব্যবস্থা করতে হবে। তা না হলে সরকারের এই বিপুল পরিমাণ অর্থ অপচয়ের পাশাপাশি আগামী বন্যায় বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়বে সাঘাটার সাধারণ মানুষ। গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, চলমান বর্ষার সময়ে এটি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কোনো বাজেট নেই। তবে খুব বেশি প্রয়োজন হলে বাজেটে সে আবেদন করা হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

