এক প্রবাসীকে লিবিয়ায় অপহরণ করে শারীরিক নির্যাতনের ভিডিও দেখিয়ে আত্মীয়-স্বজনদের কাছে মুক্তিপণ হিসেবে ২০ লাখ টাকা দাবি এবং অপহরণের ঘটনায় পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। কিশোরগঞ্জ জেলার মিঠামইন উপজেলা থেকে তাকে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে কিশোরগঞ্জ থানার ওসি আশরাফুল ইসলাম জানান, লিবিয়ায় বাংলাদেশি প্রবাসীকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি ও অপহরণের ঘটনায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কিশোরগঞ্জ থানার এস আই রিপন জানান, কিশোরগঞ্জ উপজেলার রণচন্ডী ইউনিয়নের বদি গ্রামের মৃত গাজীয়ার রহমানের পুত্র নয়া মিয়া (৩৪) ২০১৩ সালে লিবিয়ায় যান এবং সেখানেই অবস্থান করছেন। গত ১১ এপ্রিল ভিকটিমের ভাই সবুজ ইসলামের কাছে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি ফোন করে বলেন, আপনার ভাই লিবিয়ায় আটক আছে। পরে ওই ব্যক্তি বিকাশ ও নগদ দুটি এজেন্ট নম্বর দিয়ে তার ভাইয়ের মুক্তিপণ হিসেবে ২০ লাখ টাকা দাবি করে। টাকা ছাড়া তাকে ছেড়ে দেয়া হবে না বলে জানায়। ভাইয়ের বিপদের কথা চিন্তা করে ওই নম্বর দুটিতে সবুজ ইসলাম তার নিজস্ব বিকাশ নম্বরসহ বিভিন্ন এজেন্ট নম্বর থেকে ২ লাখ টাকা পাঠায়। পরে বাকি টাকার জন্য অজ্ঞাত ব্যক্তিরা প্রবাসীর শারীরিক নির্যাতনের ভিডিও পাঠিয়ে বাকি ১৮ লাখ টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।
এ ঘটনায় লিবিয়া প্রবাসীর ভাই সবুজ ইসলাম নগদ ও বিকাশ এজেন্ট নম্বর দুটির মালিকসহ অজ্ঞাত ব্যক্তি বা ব্যক্তিরা তার ভাইকে অজ্ঞাত স্থানে অপহরণ করেছে বলে কিশোরগঞ্জ থানায় ২১ এপ্রিল একটি মামলা করে। মামলায় উল্লেখিত মোবাইল নম্বর দুটির সূত্র ধরে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বৃহস্পতিবার কিশোরগঞ্জ জেলার মিঠামইন উপজেলা থেকে মোজাহিদুল ইসলামকে (৩০) গ্রেপ্তার করা হয়।
মোজাহিদুল ইসলাম কিশোরগঞ্জ জেলার মিঠামইন উপজেলার কেওয়ারজোর ইউনিয়নের কুডিয়া গ্রামের আব্দুল জব্বারের পুত্র।
কিশোরগঞ্জ থানার ওসি আশরাফুল ইসলাম আমার দেশকে জানান, প্রবাসীকে লিবিয়ায় অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি ও আদায়ের মামলায় তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার বিকালে তাকে আদালতে পাঠানো হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

