রংপুরের তারাগঞ্জে কোরবানির পশুর চামড়ার বাজারে এবার চরম মন্দা দেখা দিয়েছে। ন্যায্যমূল্যের অভাবে উপজেলার কুর্শা বাজারের রাস্তার পাশে পড়ে আছে হাজার হাজার অবিক্রীত চামড়া। ক্রেতা সংকটে বাজারজুড়ে নেমে এসেছে স্থবিরতা। একই সঙ্গে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন মৌসুমি ব্যবসায়ী, খামারি ও সাধারণ বিক্রেতারা।
একসময় ঈদকে ঘিরে জমজমাট থাকা তারাগঞ্জের চামড়া পট্টি এখন নীরব। বিক্রি না হওয়ায় অনেকেই চামড়া বাড়ি, আড়ত, মসজিদ ও খোলা জায়গায় ফেলে রেখেছেন। এতে বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিয়েছে চামড়ার স্তূপ, যা স্থানীয়ভাবে পরিবেশ ও স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কাও তৈরি করেছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের তথ্যমতে, ভালো মানের গরুর চামড়া বর্তমানে ৩০০ থেকে সাড়ে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর নিম্নমানের ও ফাটা-ছেঁড়া চামড়া ১০০ থেকে ১৫০ টাকার মধ্যেই হাতবদল হচ্ছে।
গত বছরের তুলনায় এবার দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে তৈরি হয়েছে ভারসাম্যহীনতা।
তারাগঞ্জ উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের বিভিন্ন বাজার ও গ্রামীণ এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, চাহিদা কম থাকায় অনেকেই চামড়া বিক্রি না করে নিজেদের বাড়ির আঙিনা, মসজিদ চত্বর ও দোকানের পাশে স্তূপ করে রেখেছেন।
চামড়া ব্যবসায়ী আব্দুল জলিল বলেন, আমরা আশা নিয়ে চামড়া কিনেছিলাম। কিন্তু বাজারে কোনো চাহিদা নেই। যে দামে কিনেছি, সেই দামে বিক্রি করলেও লোকসান হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
একই বাজারের আরেক ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, এমন অবস্থা আগে কখনো দেখিনি। ক্রেতা নেই, দাম নেই। চামড়া কিনে এখন গুদামে রেখে বসে আছি।
এএস
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

