আওয়ামী দোসর পুলিশ কর্মকর্তাদের রংপুর রেঞ্জে সংযুক্ত করায় বিরূপ প্রতিক্রিয়া

আওয়ামী দোসর পুলিশ কর্মকর্তাদের রংপুর রেঞ্জে সংযুক্ত করায় বিরূপ প্রতিক্রিয়া

আওয়ামী ফ্যাসিস্টের দোসর ও বিতর্কিত পুলিশ কর্মকর্তাদের রংপুর রেঞ্জে সংযুক্ত করায় রাজনীতিবীদ, সুশীল সমাজ ও অসাধারণ মানুষের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। রংপুরের মানুষ ৩৬ জুলাই বিরোধী ছাত্র-জনতার হত্যাকারী আওয়ামী লীগের দালাল এ সকল পুলিশ কর্মকর্তাদের অতিদ্রুত রংপুর রেঞ্জ থেকে অপসারণ করে বিরুদ্ধে শাস্তির ব্যবস্থা করতে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার থেকে ফেসবুক ও সাধারণ মানুষ, সুশীল সমাজ এবং রাজনৈতিক নেতাদের নানান প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে।

এ বিষয়ে শুক্রবার ৮ আগস্ট বিকেলে সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজনের রংপুরের সভাপতি অধ্যাপক ফখরুল আনাম বেন্ঞ্জু আমার দেশকে জানান, আগে দেখতাম প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তা সামান্যতম কোনো অপরাধ করলে তাকে পার্বত্য চট্টগ্রামে পানিশমেন্ট হিসেবে পাঠিয়ে দেয়া হতো। এখন দেখি কর্মকর্তারা অপরাধ করলে তাদেরকে রংপুরেই পাঠিয়ে দেয়া হয়। তাহলে রংপুর কি অপরাধীদের শোধনাগার নাকি অপরাধীদের আশ্রয়স্থল।

বেকারি ব্যবসায়ী সুমন মিয়া বেলাল হোসেন ও হোটেল ব্যবসায়ী ইব্রাহিম মিয়া জানান, লোকমুখে শুনতেছি পুলিশের যে কর্মকর্তারা আওয়ামী লীগের হয়ে জুলাই আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সাধারণ মানুষ ও ছাত্রদের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তাদেরকে রংপুর রেঞ্জে বদলি করে স্বসম্মানে রাখা হয়েছে। আমরা এই সংযুক্তির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। তাদেরকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে এসে শাস্তির ব্যবস্থা করার দাবি জানান তারা।

বিএনপি রংপুর মহানগর আহ্বায়ক সামছুজ্জামান সামু জানান, যে সকল পুলিশ কর্মকর্তা আওয়ামী লীগের সহায়তা করে ৩৬ জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতার বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে গুলি চালিয়ে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। পিটিয়ে মানুষকে আহত করেছে। তাদেরকে রংপুর রেঞ্জের সংযুক্ত করা মোটেও ঠিক হয়নি। যে সকল পুলিশ কর্মকর্তা অপরাধের সাথে জড়িত ছিল তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে জামায়াতের কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বেলাল আমার দেশকে জানান, রংপুর রেঞ্জে যে ১৩ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে সংযুক্ত করা হয়েছে এরমধ্যে অনেকেই সরাসরি হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত ছিল। তাদের মধ্যে সাবেক দিনাজপুর ও জয়পুরহাট জেলার পুলিশ সুপার হামিদুল আলম, আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর মিথ্যা রায়কে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মিছিলে প্রকাশ্য গুলি চালিয়ে জামায়াত শিবিরের নেতাকর্মীসহ অসংখ্য মানুষকে হত্যা করেছিল। সেই হত্যাকাণ্ডের পরে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার তাকে পুরস্কৃত করেছিল। সেই পুলিশ কর্মকর্তা জুলাই আগস্ট ছাত্র জনতার আন্দোলনে আওয়ামী লীগকে রক্ষায় আবারো ছাত্রজনতার বুকে গুলি চালিয়েছে। এ রকম পুলিশ কর্মকর্তাকে সরকার গ্রেপ্তার না করে রংপুর রেঞ্জের সংযুক্ত করে রংপুর অঞ্চলের মানুষকে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়েছে। জামায়াতের পক্ষ থেকে আমরা দ্রুত অপরাধী পুলিশ কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে কঠিন শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে অতিরিক্ত এক ডিআইজি আমার দেশকে জানান, জয়পুরহাটের সাবেক পুলিশ সুপার হামিদুল আলমসহ অসংখ্য পুলিশ কর্মকর্তা সরাসরি হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িত। সরকার এসব অপরাধী কর্মকর্তাদের বিভিন্ন জায়গায় বদলি না করে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে এসে শাস্তির ব্যবস্থা করতে পারত। কারণ এখানে অনেকেই হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন মামলার ও আসামি রয়েছেন। অহেতুক তাদেরকে বসে রেখে খাওয়ানো ঠিক হচ্ছে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এ বিষয়ে রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি আমিনুল ইসলাম আমার দেশকে জানান, হেডকোয়ার্টার থেকে রেঞ্জে কাউকে পাঠালে আমাদের কিছু করার থাকে না। তবে সংযুক্তদের সার্বক্ষণিক মনিটরিং এর পাশাপাশি তাদের হাজিরা সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে। রংপুর রেঞ্জে আসা ১৩ জনের মধ্যে দু’জন পলাতক এবং দু’জনকে পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

উল্লেখ্য, রংপুর রেঞ্জের সংযুক্তরা হলেন, শাহ মিজান শফিউর রহমান ডিআইজি, মোহাম্মদ জায়েদুল আলম অতিরিক্ত ডিআইজি, ড, শামসুন্নাহার অতিরিক্ত ডিআইজি, কাজী আশরাফুল আজীম পুলিশ সুপার, আলমগীর কবির তিরিক্ত ডিআইজি, সৈয়দ নুরুল ইসলাম অতিরিক্ত ডিআইজি,শেখ রফিকুল ইসলাম অতিরিক্ত ডিআইজি, ইকবাল হোসেন অতিরিক্ত ডিআইজি, এস এম রশিদুল হক অতিরিক্ত ডিআইজি, সাইফুল্লাহ আল মামুন অতিরিক্ত ডেজি, হামিদুল আলম অতিরিক্ত ডিআইজি, মোহাম্মদ হেদায়েতুল ইসলাম অতিরিক্ত ডিআইজি ও মোহাম্মদ সোহেল রেজা অতিরিক্ত ডিআইজি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন