দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডের অধীনে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় কুড়িগ্রামের চারটি বিদ্যালয়ের কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে স্থানীয় সচেতন মহলে। ছেলে-মেয়েদের পড়ালেখার বিষয়ে শিক্ষকদের অবহেলাকেই দুষছেন কেউ কেউ।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় রাজারহাটের তালতলা উচ্চ বিদ্যালয়। ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠানটি অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত এমপিওভুক্ত হয়। এরপর ২০২৪ সালে মাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠদানের অনুমতি পায় বিদ্যালয়টি। বর্তমান বিদ্যালয়টিকে ১২ জন শিক্ষক রয়েছেন। এখান থেকে এবারই প্রথম এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১২ জন শিক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হন।
শহিদুল ইসলাম নামের এক ছাত্র অভিভাবক বলেন, ‘পুরো স্কুল থেকে যদি একজন ছাত্র পাস করতে না পারে তাহলে এখানে বাচ্চা পড়িয়ে লাভ কি? স্কুলের ১২ জন শিক্ষক সারাটা বছর কি শিক্ষা দিলো ছাত্রদের? এখানে নিশ্চিত পড়ালেখা হয়না এজন্যেই সবাই ফেল করেছে।‘
বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও শিক্ষক অজয় কুমার সরকার বলেন, ‘অল্প বয়সে মেয়েদের বিয়ে হয়ে যাওয়া এবং ছেলেদের শ্রমে যুক্ত হওয়ার কারণে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম ছিল। এ ছাড়া উপজেলা শহর থেকে বিদ্যালয়টি প্রায় চার কিলোমিটার দূরে হওয়ায় ভালো শিক্ষার্থীরা শহরের বিদ্যালয়ে চলে যায়। এসব কারণেও ফলাফল খারাপ হয়েছে।‘
রাজারহাটের আরেক প্রতিষ্ঠান ব্রাহ্মণপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯৭ সালে। ২০২২ সালে নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয় হিসেবে এমপিওভুক্ত হয় প্রতিষ্ঠানটি। ২০২৪ সালে মাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠদানের অনুমতি পায়। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ১২৫ জন শিক্ষার্থী ও ৯ জন শিক্ষক রয়েছেন। এ বিদ্যালয় থেকে ৪ জন পরীক্ষা দিয়ে কেউ পাস করতে পারেনি।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘নিম্নমাধ্যমিকের শিক্ষক থাকলেও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতিতে ঘাটতি ছিল। আগামীতে ফলাফল ভালো করার চেষ্টা করা হবে।‘
১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাথরডুবি আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বর্তমানে শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন ১৬ জন। ২০১২ সালে মাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠদানের অনুমতি পায় প্রতিষ্ঠানটি। এবারের এসএসসি পরীক্ষায় এ বিদ্যালয় থেকে চারজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও কেউ উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
একই অবস্থা কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পূর্ব কুমরপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়েরও। এ বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থী এবারের এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় কুড়িগ্রাম জেলায় যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি, সেসব প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

