রৌমারীতে শৈত্যপ্রবাহের প্রভাবে সূর্যের দেখাই মিলছে না প্রায় ১৬ দিন। শিরশিরে হিমেল হাওয়া, ঘন কুয়াশা ও কনকনে শীতে জবুথবু হয়ে পড়েছে জনজীবন। সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকাল ৮টায় অঞ্চলের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে, ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল সর্বোচ্চ ৯৯ শতাংশ।
উপজেলায় তীব্র শীত ও প্রচণ্ড ঠান্ডায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়েছে পড়েছে। শীতের দাপটে গ্রামাঞ্চলের অনেকেই আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। দিনের বেলা সূর্য্যের তাপ না থাকায় হিমেল বাতাসে কমতে থাকে তাপমাত্রা। সূর্যের আলোর দেখা না পাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ। ভোর থেকে ঘন কুয়াশা আর হিমেল বাতাসে মানুষ কাজে বের হতে পারছেন না। দিনমজুর, নৌকার মাঝি, কৃষি- পাথর ভাঙ্গা শ্রমিক ও বিভিন্ন যানবাহন চালকদের আয় প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ঠান্ডায় কাজ করতে না পারায় অনেক পরিবার অনাহারে দিন কাটছে।
প্রচণ্ড ঠান্ডায় শিশু ও বয়স্কদের নিউমোনিয়া, সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্টের ঝুঁকি বেড়েছে। প্রতিদিনই ৭/৮ করে শিশু ও বয়স্করা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হচ্ছে। এসব রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতেও হিমশিম খাচ্ছে স্থানীয় চিকিৎসকরা। শীত বাড়লেও চরাঞ্চলে এখনো পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র পৌঁছেনি। অনেক এলাকায় সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম, এমন অভিযোগ স্থানীয় অনেকের।
রৌমারী সদর ইউনিয়নের পাথর ভাঙা শ্রমিক দিনমজুর ফজল হক বলেন, ঠান্ডায় কাজ করতে পারি না। সংসারের বাড়তি আয় না থাকায়, পরিবার অনাহারে কষ্টে দিন কাটছে।
উপজেলার বন্দবেড় ইউনিয়নের গাড়ি চালক মমিনুল ইসলাম বলেন, কয়েকদিন থেকে খুব ঠান্ডা। ঠান্ডায় হাত পা বরফ হয়ে যায়। গাড়ি চালাতে খুব সমস্যা হচ্ছে, গাড়ী চালিয়ে আমার সংসার চলে, গাড়ী না চালালে আমার পরিবারসহ সবাইকে না খেয়ে থাকতে হবে।
চরশৌলমারীর সাগর আহমেদ ইসলাম বলেন, ঘন কুয়াশা ও ঠান্ডা বাতাসে আমাদের কাহিল অবস্থা। আমাগরে কেউ দেখতে আসে না।
রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক (আরএমও) ডা. নবিউর রহমান জানান, প্রতিদিনই শিশু ও বয়স্করা শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে যাবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, গত কয়েক দিনের ঘনকুয়াশায় প্রায় ১৫ হেক্টর জমির বিভিন্ন ফসলের ক্ষতির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বোর ধানের বীজতলা ৩, সরিষা ৮, গম ৩ ও গোল আলু ১ হেক্টর জমি। বোর ধানের বীজতলা নষ্ট হলে কৃষকরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আমরা বিভিন্নভাবে কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে আসছি।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. শামজউদ্দিন জানান, এ পর্যন্ত আমরা ১ হাজার ৩'শ কম্বল পেয়েছি। যা প্রতিটি ইউনিয়নে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে নিয়ে শীতার্ত মানুষের সাঝে বিতরণ করা হয়েছে। সামনে আরো বরাদ্দ পেলে পর্যায়ক্রমে বিতরণ করা হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

