লালমনিরহাটে দুইমাসে আলোচিত ৫টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এরমধ্যে আদিতমারী উপজেলায় মাত্র তিন সপ্তাহের ব্যবধানে চারটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ এ উপজেলায় ভুট্টাক্ষেত থেকে মাটিচাপা দেওয়া নন্দিনী রানী (৭) নামে প্রথম শ্রেণির এক ছাত্রীর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় মূল অভিযুক্তকে আটকের পর পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিতে সংঘর্ষ হয়েছে। আগুন দেওয়া হয়েছে অভিযুক্তের বাড়িতেও। ভাঙচুর করা হয়েছে ডিসি, এসপি ও ইউএনওর গাড়ি। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাউন্ড গ্রেট নিক্ষেপ করে পুলিশ। এ ঘটনায় পুলিশসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
এরআগে উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের তালুক দুলালী বারঘড়ী গ্রামে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে কুপিয়ে আহত হওয়া উজ্জ্বল মিয়া (২৬) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। ২ জুন এ ঘটনার পর ৯ জুন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
৯ জুন আদিতমারী উপজেলার সারপুকুর ইউনিয়নে লিয়াকত আলী লাদেন (১৫) নামে এক মাদরাসাছাত্রকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ ওঠে।
দুর্গাপুর ইউনিয়নের দক্ষিণটারী গ্রাম থেকে ২৩ মে বাবার বাড়িতে আসা এক বিধবা স্বপ্না বেগমের (৫০) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
১০ এপ্রিল সদর উপজেলার তেলিপাড়া এলাকায় জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সুমন (২৫) নামে এক যুবককে হত্যার অভিযোগ ওঠে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদক, সুদের লেনদেন ও জমি-সংক্রান্ত বিরোধের মতো বিভিন্ন সামাজিক সমস্যাকে কেন্দ্র করেই এসব হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হচ্ছে। একের পর এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তদন্তের দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও হতাশা বেড়েই চলেছে।
পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। সদর থানার ওসি সাদ আহমেদ বলেন, এসব ঘটনা জমি কিংবা পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে হয়েছে। এর সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির কোনো সম্পর্ক নেই।
জেডএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

