জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি, সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের ঘটনাপ্রবাহ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুবি) ‘খবরের পাতায় গণঅভ্যুত্থান ২৪’ শীর্ষক একটি ফটো এক্সিবিশন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিনের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী এ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।
প্রদর্শনীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের আলোকচিত্র স্থান পায়। প্রদর্শিত ছবিগুলোতে আন্দোলনের বিভিন্ন ধাপ, শিক্ষার্থী-জনতার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, প্রতিবাদ, প্রতিরোধ এবং আত্মত্যাগের নানা দৃশ্য ফুটে ওঠে। দিনব্যাপী আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন এবং ছবিগুলো ঘুরে দেখেন।
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিনের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মো. ইব্রাহিম খলিল বলেন, ‘একজন সাংবাদিকের অন্যতম দায়িত্ব হলো সময়ের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও মানুষের সামনে তুলে ধরা। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাপ্রবাহের এসব ছবি শুধু স্মৃতি নয়, এগুলো আমাদের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ দলিল। এই আয়োজনের মাধ্যমে আমরা গণমাধ্যমের ভূমিকা ও দায়িত্বকে নতুনভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছি।’
একই বর্ষের শিক্ষার্থী নওরিন হক বলেন, ‘ছবি সাংবাদিকতার একটি শক্তিশালী মাধ্যম। একটি ছবি অনেক সময় হাজার শব্দের চেয়েও বেশি কিছু প্রকাশ করে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়কার ছবিগুলো আমাদের সেই সময়ের বাস্তবতা, মানুষের প্রত্যাশা ও সংগ্রামের কথা মনে করিয়ে দেয়।’
চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সানজিদা আক্তার বলেন, ‘গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতার শিক্ষার্থী হিসেবে আমাদের দায়িত্ব শুধু সংবাদ তৈরি করা নয়, বরং সমাজ ও ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো সংরক্ষণ করাও। এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস ও চেতনা ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।’
অনুষ্ঠানে উপস্থিত খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের মতো গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ঘটনাগুলো সংরক্ষণ ও নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীদের এ ধরনের উদ্যোগ ইতিহাসের দলিল সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ছবির মাধ্যমে একটি সময়ের বাস্তবতা ও মানুষের অনুভূতি তুলে ধরা সম্ভব হয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও মূল্যবোধ ধারণ করে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে যেতে হবে।’
আয়োজকরা জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাপ্রবাহ সংরক্ষণ, গণমাধ্যমের ঐতিহাসিক ভূমিকা তুলে ধরা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিহাস-সচেতনতা ও দায়িত্ববোধ জাগ্রত করাই ছিল এ প্রদর্শনীর মূল উদ্দেশ্য। তাদের আশা, এ ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতেও ইতিহাস সংরক্ষণ এবং তরুণ প্রজন্মকে মুক্তচিন্তা ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার চর্চায় উদ্বুদ্ধ করবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

