বেরোবি উপাচার্যের অফিসের ভিতরেই বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাকে মারধর

বেরোবি উপাচার্যের অফিসের ভিতরেই বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাকে মারধর

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলীর অফিসের ভিতরে কথা কাটাকাটির জেরে এক কর্মকর্তাকে মারধর করার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য দপ্তরে এ ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার সকালে বিষয়টি জানাজানি হয়।

বিজ্ঞাপন

প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত হয় দুইজন শিক্ষকের অভ্যন্তরীন চিঠি বিভিন্ন জায়গায় আদান-প্রদান হয়েছে কি না এসব নিয়ে কথাবার্তা চলতে চলতে বাংলা বিভাগের ডেপুটি রেজিস্ট্রার রফিক ইসলামকে সংস্থাপন শাখার কর্মকর্তা জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা ফোরামের সহ সভাপতি ড. জিয়াউল হক জুনিয়রের এতো কিসের কথা বলে মারতে ছুটে যান এবং কর্মকর্তা রফিককে ঘুষি মারেন।

এরপর রিসার্চ ইন্সটিটিউটের অফিসার ও বেরোবি জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা ফোরামের সভাপতি ড. রোকনুজ্জামান রুমের বাইরে কড়িডরে থাকা ফুলের টপ দিয়ে রফিক কে মারেন। শারীরিক শিক্ষা দপ্তরের পরিচালক ও জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মামদুদুর ও সাধারণ সম্পাদক তারিকুল ইসলাম ও লাবু সংঘবদ্ধভাবে রফিককে মেরে রক্তাক্ত করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়।

এ বিষয়ে আহত কর্মকর্তা বাংলা বিভাগের ডেপুটি রেজিস্ট্রার রফিক ইসলাম বলেন, মজনু স্যার ও ইউসুফ স্যারের বিষয়ে বিভিন্ন বিষয়ে চিঠি পাঠানো নিয়ে কথা চলছিল। এসময় আমি বলি, এসব চিঠি কারা পাঠায়। তার একটা বিহিত করা দরকার। যাতে পরবর্তী এরকম না ঘটে। মজনু স্যার ইউসুফ স্যারের বিরুদ্ধে চিঠি পাঠিয়েছে।

সেখানে জীবন স্যার মজনু স্যারকে সহায়তা করেছে। এই কথা বলাবলি হলে আলোচনার একপর্যায়ে তারেক বললেন, আপনি সিনিয়র-জুনিয়র বুঝেন না। সিনিয়র সিনিয়রের জায়গায় থাকবে জুনিয়র জুনিয়রের জায়গায়। এর পরবর্তীতে জিয়া আমাকে মারতে চলে আসেন। তিনি প্রথমে ঘুষি মারেন। এরপর রোকন ভাই, জিয়া এসে এক সঙ্গে মারতে শুরু করে। তিনি বলেন, জিয়া, তারেক, মামদুদ, রোকন, লাবু এরা আমাকে মারে।

মারধরের অভিযোগে অভিযুক্ত কর্মকর্তারা বলেন, দুই শিক্ষকের মধ্যে একটি বিষয় নিয়ে কথা হচ্ছিল। এ সময় কর্মকর্তা রফিক শিক্ষকদের কথার মাঝখানে কথা বলায় আমরা তাঁকে কথা বলতে নিষেধ করি। পরে তিনি আমাদের দিকে আক্রমণাত্মকভাবে এগিয়ে আসেন। তখন আমরা তাঁকে বাধা দিই। একপর্যায়ে তাঁর সঙ্গে আমাদের ধাক্কাধাক্কি হয়।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, ‘এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সিদ্ধান্ত হলে জানানো হবে।’

এমএইচ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন