ভারত থেকে এলসি (লেটার অব ক্রেডিট) মাধ্যমে বৈধভাবে আমদানি করা ৬ হাজার ৩০০ কেজি জিরা ফেরত চেয়ে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ শুল্ক গুদামের কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেছেন এক ব্যবসায়ী। তাঁর দাবি, সরকার নির্ধারিত শুল্ক, ভ্যাট ও কর পরিশোধ করে আমদানি করা ২১০ বস্তা জিরা ৫৫ বিজিবি বেআইনিভাবে জব্দ করে কাস্টমসের কাছে হস্তান্তর করেছে। এতে তিনি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে শায়েস্তাগঞ্জ শুল্ক গুদামের কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেন সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলংয়ের মামারবাজার এলাকার ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আফজালুর রহমান।
আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, তাঁর প্রতিষ্ঠান ‘আফসানা স্টোর ক্রাশার’-এর নামে বৈধ আমদানি-রপ্তানি লাইসেন্স রয়েছে। গত ১৬ জুলাই এলসি নম্বর সি-৬৩২৬-এর মাধ্যমে তামাবিল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে ৩০০ বস্তা জিরা আমদানি করেন। পরে ১৯ জুলাই প্রয়োজনীয় শুল্ক, ভ্যাট ও কর পরিশোধ করে মালামাল নিজ গুদামে নিয়ে যান।
আবেদন অনুযায়ী, আমদানি করা ৩০০ বস্তা জিরার মধ্যে ২১০ বস্তা গত ২২ জুলাই ঢাকার এক ক্রেতার কাছে পাঠানোর জন্য একটি কাভার্ড ভ্যানে তোলা হয়। একই দিন রাত সাড়ে ১০টার দিকে হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার বালিখাল এলাকায় পৌঁছালে ৫৫ বিজিবির একটি দল গাড়িটি আটক করে। চালক মালামালের কাগজপত্রের ফটোকপি দেখালেও তা গ্রহণ না করে ট্রাকসহ জিরা বিজিবির হেফাজতে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন ব্যবসায়ী।
অন্যদিকে, বিজিবির দাবি, সীমান্ত থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার অভ্যন্তরে ঢাকা-সিলেট পুরোনো মহাসড়কের তেলিয়াপাড়া রেলক্রসিং এলাকায় স্থাপিত একটি তল্লাশি চেকপোস্টে অভিযান চালিয়ে জিরাগুলো জব্দ করা হয়েছে।
ব্যবসায়ী জানান, পরে তিনি মূল কাগজপত্র নিয়ে বিজিবি কার্যালয়ে গেলে জানতে পারেন, জব্দ করা জিরা জিআর-১৬০/২৬ নম্বর মামলায় শায়েস্তাগঞ্জ শুল্ক গুদামে পাঠানো হয়েছে। পরে কাস্টমস কার্যালয়ে গিয়ে তিনি বিষয়টি নিশ্চিত হন।
আবেদনে তিনি আরও উল্লেখ করেন, জব্দ করা জিরা সম্পূর্ণ বৈধভাবে আমদানি করা হয়েছে এবং এর বিপরীতে সরকারের নির্ধারিত সব ধরনের শুল্ক, ভ্যাট ও কর পরিশোধ করা হয়েছে। তাই প্রকৃত মালিক হিসেবে তাঁর কাছে মালামাল ফেরত দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। অন্যথায় তিনি অপূরণীয় আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবেন বলেও আবেদনে উল্লেখ করেন।
ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আফজালুর রহমান বলেন, ‘বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও বিজিবির সদস্যরা কোনো কথা না শুনে বেআইনিভাবে আমার মালামাল আটক করে মামলা দিয়েছে। আমার বৈধ কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে যাচাই করলেও পাওয়া যাবে।’
শায়েস্তাগঞ্জ শুল্ক গুদামের কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘বিজিবি জব্দ করা জিরা জিআর-১৬০/২৬ নম্বর মামলায় শুল্ক গুদামে জমা দিয়েছে। ব্যবসায়ী আফজালুর রহমানের আবেদন পেয়েছি। বিষয়টি বিভাগীয় কাস্টমস কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে। তাঁরাই আবেদনটি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবেন।’
এ বিষয়ে ৫৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. তানজিলুর রহমান বলেন, ‘ব্যবসায়ীর দাখিল করা কাগজপত্র সম্পর্কে কাস্টমস কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সেগুলো জাল।’
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

