প্রথম দেখায় মনে হবে চরাঞ্চলে পানিতে ডুবে থাকা কোনো চলাচলের পথ। কিন্তু বাস্তবতা এর পুরোপুরি উল্টো। এটি ছাগলনাইয়া পৌরশহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ৫নং ওয়ার্ডের সাতবাড়ির রাস্তা। দশকের পর যুগ কেটে গেছে, সরকার পাল্টেছে কয়েক দফা। কিন্তু ৫০০ পরিবারের চলাচলের একমাত্র এই রাস্তার ভাগ্যে জুটেনি এক মুঠো ইট-বালুকনা। ফলে যা হবার তাই হয়েছে।
দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগ ধরে সংস্কারহীনতায় সড়কটি মানুষ ও যান চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। শুধু তাই নয়, খানাখন্দে ভরা রাস্তাটি এখন পৌরসভার সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সড়কের তকমা পেয়েছে স্থানীয়দের কাছে। উপজেলা ও পৌরসভা কার্যালয়ে দিনের পর দিন ধর্নায় মিলেছে কেবল আশ্বাস।
ফলে বাধ্য হয়ে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছে ভুক্তভোগী বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সাবেক মেয়র মো. মোস্তফা এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যানপন্থী ৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোজাহারুল ইসলাম মুছার ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব ও ইগো প্রবলেমের বলি এই সড়ক ব্যবহারকারী ৫০০ পরিবার।
সড়কটি দ্রুত সংস্কার ও পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেনেজ নির্মাণের দাবিতে সাতবাড়ি সোসাইটির ব্যানারে অতি সম্প্রতি মানববন্ধন কর্মসূচি ও পালন করেছে এলাকাবাসী। মানববন্ধনে শিশু, কিশোর, প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থী ছাড়াও কয়েকটি মসজিদের পরিচালনাকমিটি, ইমাম, মুয়াজ্জিন অংশ নেন। সবার একটাই দাবি তারা মুক্তি পেতে চান এই দুর্ভোগ থেকে।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়ক দিয়ে প্রায় ৫০০ পরিবারের বিভিন্ন পেশার মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করেন। এছাড়া প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও কলেজ পর্যায়ের প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী এই সড়ক ব্যবহার করে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করে। সড়কটির শেষ প্রান্তে রয়েছে কয়েকশ একর ফসলি জমি। পৌরসভার তিনটি ওয়ার্ডের কৃষকরা উৎপাদিত ফসল পরিবহনের জন্যও এই সড়কের ওপর নির্ভরশীল। এছাড়া জরুরি প্রয়োজনে ছাগলনাইয়া-ফেনী সড়কের বিকল্প ট্রানজিট সড়ক হিসেবেও ব্যবহৃত হয় এটি।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সাতবাড়ি নতুন জামে মসজিদের সাধারণ সম্পাদক ও সাতবাড়ি সোসাইটির উপদেষ্টা আব্দুল মন্নান। তিনি বলেন, ‘আমরা পৌরসভার অন্যান্য নাগরিকের মতো নিয়মিত কর পরিশোধ করি। কিন্তু আমাদের দেওয়া করের টাকার কোনো সুফল আমরা পাচ্ছি না। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলার শিকার হয়ে মানবেতর দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।"
সাতবাড়ি সোসাইটির ধর্মবিষয়ক সম্পাদক নুর হোসেন জীবন বলেন, ‘দুই সমাজের প্রায় তিনশ মুসল্লি প্রতিদিন কাদা ও ময়লাপানি মাড়িয়ে মসজিদে আসা-যাওয়া করেন। দ্রুত সড়ক সংস্কার ও ড্রেনেজ নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করছি।’
সোসাইটির সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউল হক বাবলু বলেন, ‘বছরের পর বছর পৌরসভা থেকে শুধু আশ্বাসই দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে সড়ক সংস্কারের কোনো কাজ চোখে পড়েনি। এখন আর আশ্বাস নয়, আমরা দ্রুত কাজের বাস্তবায়ন দেখতে চাই।’
এ সময় আরও বক্তব্য দেন রৌশন আলী মুন্সি জামে মসজিদের সভাপতি আমান উল্যাহ, সাতবাড়ি সোসাইটির সভাপতি ইঞ্জিনীয়ার সোহেল রানা এবং সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা ও বাহার উদ্দিন।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, পাকা রাস্তার স্বাক্ষী হিসেবে কয়েক জায়গায় উঁকি মারছে লাল-কালো ইটের কনা। এছাড়া পুরো সড়কজুড়েই ছোট-বড় শতাধিক গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টিতে গর্তগুলো পানিতে তলিয়ে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। মশা-মাছির প্রজনন কেন্দ্রে পরিনত হয়েছে এগুলো। অতি বর্ষায় যেগুলো পরিণত হয় মরনফাঁদে।
খানাখন্দে ভরা রাস্তাটিতে রিকশা কিংবা অন্য কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারে না। বাধ্য হয়ে কাদা ও ময়লা পানি মাড়িয়ে পায়ে হেঁটেই চলাচল করতে হয় এলাকাবাসীকে। প্রয়োজন হলে দ্বিগুণ-তিনগুণ ভাড়া দিয়ে যানবাহন ভাড়া করতে হয়। তাও অর্ধেক পথে নামিয়ে দেয়া হয় যাত্রীদের। পৌরসদর থেকে মাত্র এক মিনিটের দূরত্বে অবস্থিত হলেও সড়কটির বেহাল চিত্র যেন "বাতির নিচে অন্ধকার"-এর বাস্তব উদাহরণ।
রাস্তাটির বিষয়ে জানতে ছাগলনাইয়া পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মাসুদ আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘রাস্তাটি তিনি পরিদর্শন করেছেন এবং টেকসই নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সড়কটির উন্নয়নের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

