গত কয়েকদিন থেকেই সিলেটের বাজারে সয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছে না। কোম্পানিগুলোর নানান শর্তে কিনতে হচ্ছে সয়াবিন তেল। গত দু’দিন থেকে অধিকাংশ দোকানে বোতলজাত সয়াবিন তেল নেই বলে ক্রেতাদের ফিরিয়ে দিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।
শনিবার নগরীর বন্দরবাজার, কালীঘাট, ব্রহ্মময়ী বাজার, আম্বরখানা, সুবিদবাজারসহ অনেক দোকানে খোঁজ নিয়ে এসব তথ্য জানা গেছে। পাড়া-মহল্লার দোকানে অনেকদিন থেকেই সয়াবিন তেলের হাহাকার।
বন্দরবাজারের মনির এন্ড সন্সসহ কয়েকটি দোকান শর্ত দিয়ে বিক্রি করছে সয়াবিন তেল। ৫ লিটার বোতলের ৮৫০ টাকার সয়াবিন তেল ১ কেজি চিনিগুড়া চালসহ কিনতে হচ্ছে ১০১০ টাকায়। এছাড়া কয়েক হাজার টাকার বাজার করলে দেওয়া হয় ৫ লিটার বোতলের তেল। এছাড়া তেল নেই বলে অনেক বড় বড় দোকান থেকে ক্রেতাদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। প্যাকেটজাত তেল শুক্রবার ১৭০ টাকা করে বিক্রি করা হলেও শনিবার তা বিক্রি হচ্ছে ১৮৫ টাকা করে। সুপার শপগুলোতেও তেল নেই বলে বিক্রেতারা জানান।
এ ব্যাপারে সিলেটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদ আমার দেশকে জানান, সয়াবিন তেলের সরবরাহ পর্যন্ত রয়েছে, কিন্তু কোম্পানিগুলোর বিভিন্ন শর্ত আরোপের কারণে দোকানে সরবরাহ কম। আমরাও শুনেছি বিভিন্ন শর্ত দিয়ে তেল বিক্রি করা হচ্ছে। যে কারণে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। শর্ত আরোপোর এই বিষয় নিয়ে রোববার বেলা ১২টায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি বৈঠক ডাকা হয়েছে। ওই বৈঠকে বিভিন্ন কোম্পানির প্রতিনিধিদের উপস্থিতির জন্য আহ্বান করা হয়েছে। বৈঠকে তেলের সংকট নিয়ে আলোচনা হবে।

এদিকে বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দুই-তিন দিনের ব্যবধানে মোরগ ব্রয়লার ও সোনালীতে কেজি প্রতি ২৫ থেকে ৩০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। মোরগের পাশাপাশি গরুর মাংস ৭৫০ থেকে ৮০০ ও খাসির মাংস ১১০০ থেকে ১২০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। ছোলা, ডাল, পেঁয়াজ, রসুন এবং বিভিন্ন সবজিপণ্য কাচামরিচ, টমেটো, শসা, আলু, বেগুন, ধনিয়াপাতাসহ অধিকাংশ পণ্যে এক সপ্তাহের ব্যবধানে ২০ থেকে ৩০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এবার তুলনামূলকভাবে খেজুরের দাম বৃদ্ধি পায়নি। প্রতিকেজি ২০০ টাকা থেকে ১৪০০ টাকার মধ্যে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। ফলমূলের দামও রমজানকে সামনে রেখে বৃদ্ধি পেয়েছে। আঙুর ৪৫০ থেকে ৫৫০ টাকা, কমলা (কেনু) ২৫০ টাকা এবং মালটা ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা, পেয়ারা ১০০-১২০ টাকা দাম চাচ্ছেন বিক্রেতা। তবে সিলেটের বাজারে লেবুর সংকট রয়েছে। রমজানের প্রথমদিন এই পণ্যের দাম আরো বাড়বে বলে ক্রেতারা আশঙ্কা করছেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

