সিলেটের ওসমানীনগরে কয়েক দিন ধরে যে ভিডিওটি ভাইরাল, সেটি একুশে পদকপ্রাপ্ত আমার দেশ পত্রিকার মজলুম সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমানের।
গত ১৫ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১টায় সিলেটের একটি অভিজাত হোটেলে আমার দেশ পত্রিকার সিলেট বিভাগীয় প্রতিনিধি সম্মেলনে দেয়া বক্তব্যে সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় আগ্রাসন ও হেজমনির বিরুদ্ধে প্রতিনিধিদের অ্যাসাইনমেন্ট দিতে গিয়ে বিএনপির সাহসী নেতা এম ইলিয়াস আলীকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন তিনি।
২০১১ সালে ভারতীয় আধিপত্যের বিরুদ্ধে টিপাইমুখে বাঁধ নির্মাণের প্রতিবাদে ইলিয়াস আলীকে নিয়ে একতরফা ভারত অভিমুখে সাহসী ও সাড়া জাগানো লংমার্চের বিষয়টি উল্লেখ করে ড. মাহমুদুর রহমান বলেন, ইলয়াস আলীকে খুব মিস করছি। ইলিয়াস আলী সিলেটের এক অমূল্য সম্পদ ছিলেন। সারা দেশেই ছিল তার অসম্ভব জনপ্রিয়তা। ইলিয়াসের কথা মনে হলে খুব কষ্ট লাগে, খারাপ লাগে। যদিও আমাদের পত্রিকায় আমরা অন্যরকম একটি নিউজ ছাপিয়েছি। তারপরও কামনা করছি ইলিয়াস আলী আমাদের মাঝে ফিরে আসুক। যদিও সোর্স আমাদের খারাপ নিউজ দিয়েছেন। সেই খারাপ নিউজটি ভুল প্রমাণিত হয়ে ইলিয়াস আলী ফিরে আসুক। তখন আমরা বলবো আমাদের নিউজ ভুল ছিল। সাধারণত কোনো পত্রিকার সম্পাদক চায় না তার নিউজ ভুল প্রমাণিত হোক। কিন্তু আমরা চাচ্ছি ইলিয়াস আলী ফিরে আসার ক্ষেত্রে আমাদের নিউজটি ভুল প্রমাণিত হোক।
ড. মাহমুদুর রহমানের ১৯ মিনিট ৩ সেকেন্ডের বক্তব্যের শেষাংশে ইলিয়াস আলীকে নিয়ে আবেগপ্রবণ স্মৃতিচারণ নতুন করে দাগ কেটেছে ইলিয়াসপ্রেমী সিলেটিদের মনে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক ভাইরাল হয় এই ভিডিওটি। এতে প্রশংসায় ভাসছেন ড. মাহমুদুর রহমান। বিশেষ করে ইলিয়াস আলীর নির্বাচনি এলাকা ওসমানীনগর-বিশ্বনাথের মানুষের মাঝে আশাবাদ তৈরি হয়েছে তাকে ফিরে পাওয়ার ক্ষেত্রে। সিলেটের মানুষের কাছে ভালোবাসার এক নাম ছিল ইলিয়াস আলী।
অত্যন্ত জনপ্রিয় নেতা ইলিয়াস আলীকে শেখ হাসিনার ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের শুরুতে ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল ঢাকার বনানী এলাকা থেকে অপহরণ করা হয়। ইলিয়াস আলীকে গুমের ১৫ দিন আগে ঢাকায় একটি মামলার জামিন নিতে গিয়ে নিখোঁজ হন সিলেট মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক ইফতেখার হোসেন দিনার ও ছাত্রদল নেতা জুনেদ আহমদ।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

