শীতের শুষ্কতা কাটিয়ে অবশেষে সিলেটে স্বস্তির বৃষ্টিতে নতুন যৌবন ফিরে পেয়েছে সাদাপাথর। ধূসর পাহাড় এখন সতেজ সবুজ, আর নদীতে ফিরেছে চঞ্চলতা। সাদাপাথরে এখন জলরাশির কলতান। প্রকৃতির এই নতুন রূপ দেখতে আসন্ন ঈদুল ফিতরের ছুটিতে রেকর্ডসংখ্যক পর্যটক সমাগমের আশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
শীতের শুষ্কতা কাটিয়ে টানা পাঁচ দিনের বৃষ্টিতে পানি কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রাণ ফিরে পেয়েছে পর্যটনকেন্দ্র। পাথর আর স্বচ্ছ জলের মেলবন্ধনে এক মায়াবী পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বৃষ্টির পর পাহাড়ের গা বেয়ে নামা স্বচ্ছ জলরাশিতে অপরূপ সৌন্দর্যের সৃষ্টি হয়েছে সেখানে।এদিকে পর্যটকদের বরণে প্রস্তুত রয়েছেন পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। খাবারের হোটেল, কাপড়ের দোকান, বিভিন্ন জাতের বিস্কুট-চকলেট আর প্রসাধনীর দোকানগুলো নতুন রূপে সাজিয়েছেন সবাই। তারা আশা করছেন, দীর্ঘদিনের খরা কাটিয়ে উঠতে পারবেন এই ঈদে। নির্বাচন আর রমজানের সময়ে মোটেও ব্যবসা হয়নি, যার কারণে ঈদের অপেক্ষায় ব্যবসায়ীরা।
সাদাপাথর পর্যটন ব্যবসায়ী সমিতির সহসভাপতি লিটন মিয়া জানান, রমজানের পুরো মাস পর্যটকেরা আসেন না। ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের সমাগম ভালো হবে বলে আমরা আশাবাদী। এজন্য দোকান সাজসজ্জাসহ সব প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন ব্যবসায়ীরা। পর্যটকদের বরণ করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন তারা। দোকানপাটের সাজসজ্জা, নৌকা মেরামত, পর্যটকদের নিরাপত্তারও সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রবিন মিয়া জানিয়েছেন, পর্যটকদের সুবিধার্থে মেডিকেল টিম ও ফায়ার সার্ভিসের একটি দল সেখানে থাকবে। তিনি আরো জানান, সাদাপাথর এলাকায় স্থায়ীভাবে কোনো ওয়াশরুম না থাকায় পর্যটকদের সুবিধার জন্য সেখানে অস্থায়ীভাবে কয়েকটি ওয়াশরুম বসানো হয়েছে।
সিলেট জেলা পুলিশ জানায়, পর্যটনকেন্দ্রগুলোয় ট্যুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশও টহলে থাকবে। পর্যটনকেন্দ্রে লাইফ জ্যাকেটসহ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এদিকে ২২ মার্চ কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পর্যটন কেন্দ্র সাদাপাথর পরিদর্শন করবেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। সেখানে পর্যটকদের জন্য নিরাপত্তা প্রদানের লক্ষ্যে স্থানীয় প্রশাসন কর্তৃক গৃহীত কার্যক্রম পরিদর্শন করবেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

