আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

হুমকিতে সড়ক ও পরিবেশ

সুনামগঞ্জে খাসিয়ামারা নদীতে ড্রেজারে বালু উত্তোলন

জসীম উদ্দিন, সুনামগঞ্জ

সুনামগঞ্জে খাসিয়ামারা নদীতে ড্রেজারে বালু উত্তোলন
ছবি: আমার দেশ

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার খরস্রোতা খাসিয়ামারা নদী থেকে রাতের আঁধারে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। রাতে বালু উত্তোলন করে নদীর পাড়ে ডাম্পিং করে রাখছে একশ্রেণির বালু খেকো। এতে করে স্থানীয় বসতবাড়ি ফসলি জমি, বাজার ও সড়ক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বালু বহনকারী ট্রাক্টরের শব্দ ও ধুলোবালিতে মারাত্মক দূষণের শিকার হচ্ছে আশপাশের গ্রাম। পরিবেশ বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেতে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন এলাকাবাসী।

সরেজমিনে দেখা যায়, দোয়ারা উপজেলার লক্ষীপুর ইউনিয়নের মাটগাঁও গ্রামের সড়কের কয়েকটি স্থানে বিপুল পরিমাণ বালু ডাম্পিং করে রাখা হয়েছে। সড়কের পাশের খাসিয়ামারা নদী থেকে ড্রেজার মেশিনের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করে সেগুলো এখানে জমা করা হয়। মাঠগাঁও ও ভাঙ্গাপাড়া এলাকায় পাঁচ টি ড্রেজার মেশিন লাগানো হয়েছে। এগুলো দিয়ে বালু উত্তোলন করে পরে রাতে ট্রাকযোগে এসব বালু দেশের বিভিন্ন জেলায় পাচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয়রা জানান, শত শত ট্রাক ও ট্রাক্টরের বিকট শব্দে রাতে ঘুমাতে পারেন না গ্রামের মানুষ। ধুলোবালিতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে পুরো এলাকা। স্কুল শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায়ও মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে। সড়কের ওপর বালু জমে এমন অবস্থা হয়েছে যে দূর থেকে দেখলে মনে হয় এটি যেন বালুর সড়ক। হাঁটা-চলা ও যানবাহন চলাচলও দুরূহ হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অবাধে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর দুই পাড়ের মাটগাঁও ও ভাঙাপাড়া গ্রাম ভাঙনের মুখে পড়েছে।

ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পান না। প্রতিবাদ করলেই মামলার হুমকি দেওয়া হয়। কোটি কোটি টাকার বালু রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে পাচার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে স্থানীয় প্রভাবশালীদের সম্পৃক্ততার কথাও বলেন এলাকাবাসী।

ভাঙাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘খাসিয়ামারা নদীতে অবাধে বালু লুট হচ্ছে। প্রশাসন এসব দেখেও না দেখার ভান করছে। প্রতি রাতে ট্রাক্টরের শব্দে ঘুমাতে পারি না। সবজি ক্ষেত নষ্ট করে বালু ডাম্পিং করা হচ্ছে। প্রশাসন যদি এসব বালু জব্দ করে নিলামে তোলে তাহলে বালু লুট কিছুটা কমবে। নদীতে ড্রেজার নিষিদ্ধ থাকার পরও প্রকাশ্যে এসব মেশিন কীভাবে চলছে সেটিও প্রশ্নের বিষয়।”

তিনি আরও জানান, কয়েক দিন আগে তহশীলদার এসে অভিযান চালালেও ড্রেজার বা ডাম্পিং করা বালু জব্দ না করে দায়সারা অভিযান চালিয়ে চলে যান।

ভাঙ্গাপাড়া গ্রামের হারুন মিয়া বলেন, “খাসিয়ামারা নদীর ভাঙনে মাটগাও ও ভাঙাপাড়া গ্রাম বিলীন হওয়ার পথে। ড্রেজারের তাণ্ডবে গ্রামবাসী চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। ধুলোবালুর কারণে সর্দি-কাশিসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন স্থানীয়রা। সড়কে ট্রাক্টর চলাচলের কারণে সড়কও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এখন মনে হয় এটি যেন বালুর সড়ক।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, এলাকার জনপ্রতিনিধিরা এসব বিষয়ে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করেন না। সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ করলে মামলার ভয় দেখানো হয়। প্রশাসনকে জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এখনও সড়কের পাশে কয়েক লাখ ঘনফুট বালু ডাম্পিং করা রয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।

ইজারাদার হারুন রশিদ বলেন, নদী থেকে বৈধ উপায়ে বালু উত্তোলন করে ডাম্পিং করা হচ্ছে। ডাম্পিং করা এসব বালু রয়েলেটির মাধ্যমে ব্যাবসায়ীরা দেশের বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যাচ্ছেন। বালু উত্তোলনে কোনো অনিয়ম হয়নি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অরুপ রতন সিংহ বলেন, খবর পেয়েই তহসিলদার কে পাঠিয়েছিলাম। কয়েকটি ড্রেজার বিনষ্ট করা হয়েছে। রিমোট এরিয়া এজন্য অভিযান পরিচালনা করতে সমস্যা হয়। এই চক্রের মূল হোতা কে আমরা খোঁজার চেষ্টা করছি। কেউ যেন অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করতে না পারে সে ব্যাপারে সজাগ রয়েছি।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, কেউ যেন কোনো নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করতে না পারে, সে ব্যাপারে আমাদের জিরো টলারেন্স। ইউএনও কে বলেছি এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন