কম খরচে বেশি ফলন

ক্ষেতলালে মালচিং পদ্ধতিতে করলা চাষ

ক্ষেতলালে মালচিং পদ্ধতিতে করলা চাষ
করলা চাষ । ছবি: আমার দেশ

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার তুলসীগঙ্গা ইউনিয়নের আটি গ্রামে চলতি মৌসুমে আধুনিক মালচিং পদ্ধতিতে করলা চাষ করে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা।

উৎপাদন বৃদ্ধি, পরিচর্যা ব্যয় কমানো এবং বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় এ পদ্ধতির চাষে আগ্রহ বাড়ছে। কৃষকদের আশা, সরকারি সহযোগিতা বাড়লে করলা চাষের পরিধিও বৃদ্ধি পাবে।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় কৃষক রানা, মাহফুজুল, সোহাগ, কাফি, ছোবাহান, কাবিলসহ একাধিক চাষি জানান, মালচিং পদ্ধতিতে আগাছা কম জন্মায়, মাটির আর্দ্রতা বজায় থাকে এবং সেচের পানির প্রয়োজনও কম হয়। ফলে পরিচর্যার খরচ ও কীটনাশকের ব্যবহার আগের তুলনায় কমেছে।

চারা রোপণের ৪৫ থেকে ৬০ দিনের মধ্যেই করলা সংগ্রহ করা যায়। বাজারে ভালো দাম থাকায় লাভও বেশি হয়। তাই আগামী মৌসুমে আরও বেশি জমিতে এ পদ্ধতিতে করলা চাষের পরিকল্পনা করছেন তারা।

কৃষকরা জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে প্রতি ৩৩ শতাংশ জমিতে করলা চাষে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা খরচ হয়। ভালো ফলন এবং বাজারে অনুকূল দাম থাকলে একই জমি থেকে দেড় লাখ থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত করলা বিক্রি করা সম্ভব।

মালচিং প্রযুক্তিতে উৎপাদিত করলা নিরাপদ ও মানসম্মত হওয়ায় বাজারে এর চাহিদাও বেশি। ফলে দিন দিন এ পদ্ধতির করলা চাষ এলাকায় জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

ক্ষেতলাল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মল্লিকা রানী সেহানবীশ বলেন, ‘চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ১০ হেক্টর জমিতে করলার আবাদ হয়েছে। নিয়মিত পরিচর্যা, রোগবালাই দমন এবং মালচিং পদ্ধতি অনুসরণ করলে আরও ভালো ফলন ও লাভ পাওয়া সম্ভব। মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আধুনিক মালচিং প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বাজারে করলার ভালো দাম- এই দুইয়ের সমন্বয়ে ক্ষেতলালে করলা চাষ কৃষকদের জন্য একটি লাভজনক ও সম্ভাবনাময় ফসলে পরিণত হয়েছে।’

এমএইচ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন