বিএনপি নেতার কাছে চাঁদা দাবি

মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মাহবুব আল জামালকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। গতকাল শনিবার রাতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির এর নির্দেশনায় দপ্তর সম্পাদক (সহ-সভাপতি মর্যাদা) মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত পত্রে এ কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়।

বিজ্ঞাপন

নোটিশে বলা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগের ভিত্তিতে আপনাদের বিরুদ্ধে কেন স্থায়ী সাংগঠনিক ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে না, তা আগামী ৫ জানুয়ারির মধ্যে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা জমা দিতে হবে।

জানা যায়, সম্প্রতি রাজনগর উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য নুরুল ইসলাম সেলুনের গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় চাঁদাবাজি ও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগে জেলা ছাত্রদলের সহ সভাপতি মাহবুল আল জামালসহ ১৩ জনের নাম উল্লেখ ও ৪০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে রাজনগর থানায় মামলা করা হয়। রাজনগর থানায় মামলাটি করেন উপজেলার মনসুরনগর ইউনিয়ন সেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি মশাহিদ আহমদ।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, রাজনগর সদর ইউনিয়নের দত্তগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে মনসুরনগর ইউনিয়নে বিএনপির সভায় যাওয়ার সময় কলেজ পয়েন্টে পৌঁছালে উপজেলা বিএনপির সাবেক ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ছাত্রদল নেতা মাহবুব আলম জামালসহ কয়েকজন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নুরুল ইসলাম সেলুনের গাড়ি আটকিয়ে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সেলুনকে লক্ষ্য করে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে ছাত্রদল নেতা জামাল গুলি করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এ সময় লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে নুরুল ইসলাম সেলুনের টয়োটা প্রাডো গাড়ি ও একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়।

এ বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মাহবুব আলম জামাল বলেন, আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। ইউনিয়ন বিএনপির ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাকর্মীদের না জানিয়ে তারা কমিটি করছেন। ওইদিন কলেজ পয়েন্টে আমাদের একটি পথসভা ছিল। নুরুল ইসলাম সেলুন গাড়ি থেকে নেমে উপস্থিত নেতাকর্মীদের অকথ্য গালিগালাজ ও গুলি ছুড়েন।

রাজনগর উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য নুরুল ইসলাম সেলুন বলেন, উপজেলা বিএনপির নতুন আহ্বায়ক কমিটি বিভিন্ন ইউনিয়নে সভা করে কমিটির গঠনের কাজ করা হচ্ছে। ঘটনার দিন দত্তগ্রামে মিটিং শেষে মনসুরনগরে যাওয়ার জন্য কলেজ পয়েন্টে পৌঁছালে জামালসহ ৪০-৫০ জন আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে আমার উপর গুলি করে ও গাড়ি ভাঙচুর করে। উপস্থিত নেতাকর্মীরা তাদের বাধা দিতে গেলে মারধরের শিকার হয়। সে দলবল নিয়ে আমার গাড়ি ও নেতাকর্মীদের মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেছে। গাড়িতে হামলা করেছে। এখন উল্টো মিথ্যা বক্তব্য দিয়ে জামাল বলেছে, আমি তাদের গুলি করেছি। অথচ আমি সেদিন গাড়ি থেকেই নামি নাই। সে দীর্ঘদিন ধরে লোকমারফত আমার কাছে চাঁদার জন্য খবর পাঠিয়েছে। আমি কোনোভাবেই তাকে চাঁদা দিবো না বলেছি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন