সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়ন বিএনপির কমিটির গঠনকে কেন্দ্র করে সামাদ মুন্সী ও শামসুল হকের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে। এক পক্ষ আরেক পক্ষকে ফ্যাসিবাদের দোসর আখ্যা দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। এবং অভিযোগকারীরা শেখ হাসিনার শাসনামলে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি মোয়াজ্জেম হোসেন রতন ও দলের নেতাদের সাথে সভা, সমাবেশের ছবি তুলে ধরে দোসর প্রমাণ করছেন। এ নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঝে নানারকম প্রশ্ন ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
শনিবার দুপুরে সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে আব্দুস সামাদ মুন্সী বলেন, তাহিরপুর উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের আহবায়ক কমিটি গঠনের পর এখন মূল কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। এ কমিটিতে তিনজন সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী। আমিও এ পদে একজন প্রার্থী। কিন্তু আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা আমার সম্পর্কে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করছেন। এবং আমাকে ফ্যাসিস্ট বানিয়ে সংবাদ মাধ্যমে তুলে ধরছেন। অথচ গত দেড় দশক শামসুল হক ও কামাল হোসেন বিগত সময়ের আওয়ামী লীগ সরকারের এমপির সাথে আঁতাত করে কোটি কোটি টাকা লুটপাট করেছেন।

এদিকে গতকাল শুক্রবার রাতে সামাদ মুন্সীকে ইউনিয়ন বিএনপির কমিটিতে না নেয়ার দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে হাজী শামসুল হক ও কামাল হোসেন বলেন, আব্দুস সামাদ মুন্সি দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে আসছেন। সামাদ মুন্সি তার ছোটো ভাই আব্দুল কুদ্দুসকে শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বানানোর জন্য তৎকালীন সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হোসেন খাঁনের সঙ্গে হাত মিলিয়েছিলেন। সামাদ ও তার ভাই আব্দুল কুদ্দুস এমপি রতনের নাম ভাঙিয়ে এলাকায় কোটি কোটি টাকা লুটপাট করেছেন। এমপি রতন প্রায়ই সামাদের বাড়িতে মিটিং, খাওয়া-দাওয়া ও রাত্রিযাপন করতেন।
জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির স্বাক্ষর ক্ষমতা সম্পন্ন সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল হক আমার দেশকে বলেন, আমাদের কাছে দুই পক্ষই অভিযোগ করেছেন। আমরা জেলা কমিটির আহবায়ককে নিয়ে আজ বসে অভিযোগ যাচাই বাছাই করব। যাচাই বাছাইয়ে ফ্যাসিবাদের দোসরের প্রমাণ পাওয়া গেলে কাউকেই কমিটিতে রাখা হবে না।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

