হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে কয়েকদিনের চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বিরূপ আবহাওয়া, বজ্রবৃষ্টি ও অতিবৃষ্টি। এছাড়া অতিবৃষ্টির কারণে সদর, বদলপুর, জলসুখা, শিবপাশা ও কাকাইলছেও ইউনিয়নের বিভিন্ন হাওড়ে প্রায় ১৬০০ হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে। ফসল ঘরে তুলতে না পেরে চরম উৎকন্ঠা আর হতাশায় দিন কাটছে হাওড় পাড়ের হাজারো কৃষকের।
উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলার বিভিন্ন হাওড়ে ১৪ হাজার ৫৬০ হেক্টর জমিতে বোরো উৎপাদন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫ হাজার ১৫৫ হেক্টর জমির ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে।
সরেজমিনে বিভিন্ন হাওড় ঘুরে দেখা গেছে, বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাওয়া ধান কাটতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। কেউ আবার নৌকায় করে ধান শুকনো জায়গায় এনে জড়ো করছেন।
বদলপুর ইউনিয়নের উত্তর হাটির শিবলাল দাস বলেন, ৩ একর জমি ইজারা নিয়ে আবাদ করেছিলাম। খরছ প্রায় দেড় লাখ টাকার বেশি হয়েছে। কিন্তু এক মুটো ধানও কাটতে পারিনি। এখন ইজারাদারদের ইজারার টাকা কিভাবে দিবো? সন্তানদের কি খাওয়াবো ভেবে পাচ্ছি না।
কৈয়াগোপী গ্রামের হরেকৃষ্ণ দাস বলেন, সাড়ে ৫ একর জমিতে বোরো আবাদ করেছিলাম। মাত্র ১ একর জমির ধান কাটতে পেরেছি। বাকি সব পানিতে তলিয়ে গেছে। কিভাবে সামনের দিন কাটবে তাই ভেবে কুল পাচ্ছি না।
নদীপুর গ্রামের গিরসচন্দ্র দাস নামে আরেক কৃষক বলেন, ৬ একর জমিতে বোরো আবাদ করেছিলাম। ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা আমার খরচ হয়েছে। মাত্র ১ একর জমির ধান কেটেছি বাকি সব কোমড় পানিতে তলিয়ে গেছে। সব টাকাই দেনা করে এনেছিলাম। পরিবার নিয়ে ঘরের ভাত খাওয়াই এখন মুশকিল।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন বলেন, আমরা মাঠের সার্বিক পরিস্থিতি সরজমিনে পর্যবেক্ষণ করছি। শ্রমিক সংকটের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের সাথে কথা বলে জেলায় চাহিদা পত্র পাঠানো হয়েছে। আশা করছি আবহাওয়া ঠিক থাকলে বাকি জমির ধান দ্রুত কাটা শেষ হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম রেজাউল করিম জানান, গতকাল পর্যন্ত প্রায় ১৬০০ হেক্টর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করা হচ্ছে। শ্রমিক সংকট নিরসনে উপজেলা প্রশাসন থেকে জরুরি সভা করা হয়েছে, জনপ্রতিনিধিসহ সর্বস্তরের মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করে শ্রমিক সরবরাহ করার চেষ্টা চলছে।
জেডএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

