মৌলভীবাজার শহরের সাইফুর রহমান স্টেডিয়ামে ২২ জুন অনুষ্ঠিত হচ্ছে সদর উপজেলার বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন। এ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে উপজেলার তৃণমূলের বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে বিরাজ করছে উৎসাহ, উদ্দীপনা ও রাজনৈতিক চাঞ্চল্য।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় ১২টি ইউনিয়নে মোট ১৩টি ইউনিট রয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলরদের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। নানা গুঞ্জন, আলোচনা ও প্রচারণা চলছে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের ঘিরে। পোস্টার-ব্যানার, মিছিল-মিটিং, গণসংযোগ সব মিলিয়ে জমজমাট পরিবেশ। দলের একাধিক নেতা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদসহ পাঁচটি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে তরুণ ও শিক্ষিত নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ এবারের সম্মেলনকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।
বিএনপির তৃণমূল কর্মী খালেদ চৌধুরী বলেন, প্রার্থীরা আমাদের বাড়িতে এসে ভোট চাচ্ছেন। এটা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। আমি মনে করি- এই সম্মেলন শুধু একটি ফর্মাল আয়োজন নয়, এটি আগামীর দেশ পুনর্গঠনের জন্য নতুন নেতৃত্ব বাছাইয়ের প্ল্যাটফর্ম।
সম্মেলনের কাউন্সিলিং অধিবেশনে পাঁচটি পদে মোট ১৬জন প্রতিদ্বন্ধিতা করবেন। ১৩টি ইউনিটে মোট ৯২৩ জন ভোটারের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।
সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন মো. ফখরুল ইসলাম ও মুজিবুর রহমান মজনু। সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন আব্দুল করিম ঈমানী, মো. সাদিকুর রহমান, রুহেল বখস, শাহ ফখরুজ্জামান। সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন মারুফ আহমদ ও মো. রানা খান শাহীন। সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে মুজিবুর রহমান, মো. জিল্লুর রহমান, সেজুল আহমদ ও শফিউর রহমান শফি। সাংগঠনিক সম্পাদক করে প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন কাজল মাহমুদ, বদরুল ইসলাম, আব্দুর রহমান সোনাওর, তোফায়েল আহমদ তোয়েল।
সদর উপজেলা বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন ও কাউন্সিলের প্রধান নির্বাচন কমিশনার এম এ মুকিত বলেন, গঠনতান্ত্রিক ধারায় সম্মেলনের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন হলে দলে শৃঙ্খলা ও ঐক্য ফিরে আসবে। এ সম্মেলন তৃণমূলের অনেক নিষ্ক্রিয় নেতাকর্মীকেও নতুনভাবে যুক্ত করছে।
সদর উপজেলার সম্মেলন সফল হলে তা জেলার অন্যান্য উপজেলার প্রতিও একটি শক্ত বার্তা হবে।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম ময়ূন বলেন, সদর উপজেলা বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নিয়মিত রাজনৈতিক চর্চার অংশ। এ সম্মেলনের মাধ্যমে আমরা তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতে নেতৃত্ব গঠনের সুযোগ করে দিচ্ছি। নেতাকর্মীদের মধ্যে যে উৎসাহ-উদ্দীপনা আমরা দেখছি, তা প্রমাণ করে বিএনপি এখনো মাঠের শক্তিশালী দল।
জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুর রহিম রিপন বলেন, এই সম্মেলনের উদ্দেশ্য দলকে সাংগঠনিকভাবে আরও শক্তিশালী করা। আমরা একটি নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ ও সফল সম্মেলন আয়োজন করতে চাই। কাউন্সিলরদের মতামতের ভিত্তিতেই নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন হবে।
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান বলেন, মৌলভীবাজার সদর উপজেলা বিএনপির সম্মেলন হচ্ছে। এটি আমাদের সাংগঠনিক অগ্রযাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এই সম্মেলনের মাধ্যমে আমরা শুধু নেতৃত্ব নির্বাচন করছি না, বরং একটি গণতান্ত্রিক, জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সাংগঠনিক শক্তিকে পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিচ্ছি।
বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (সিলেট বিভাগ) জিকে গউছ বলেন, মৌলভীবাজার সদর উপজেলা বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন আমাদের জাতীয় রাজনীতির জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক বার্তা দেয়। এটি প্রমাণ করে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দমন পীড়নের মধ্যেও বিএনপি সাংগঠনিকভাবে কতটা শক্তিশালী ও গতিশীল। তৃণমূলই আমাদের প্রাণ, আর এই সম্মেলনের মাধ্যমে আমরা সেই প্রাণকে আরও কার্যকর করতে চাই।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

