মৌলভীবাজার শহরের শমসেরনগর রোডে নিজের দোকানে নামাজ শেষে ফেরার পর ব্যবসায়ী রুবেলকে হত্যা করা হয়েছে। পরিকল্পিভাবেই তাকে হত্যা করে জুহেল মিয়া (২২) ওরফে জুয়েল ওরফে আলিফ। ৭ আগস্ট হত্যার ১০ দিন পর এ ঘটনার বিস্তারিত জানিয়েছেন পুলিশ সুপার এম. কে. এইচ জাহাঙ্গীর হোসেন।
রোববার দুপুরে মৌলভীবাজার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান
পুলিশ সুপার জানান, গত ৭ আগস্ট সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ৩৫ মিনিট থেকে ৭টার মধ্যে শমসেরনগর রোডের সিএনজি স্ট্যান্ডসংলগ্ন ‘এফ রহমান ট্রেডিং’ দোকানে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। এ সময় দোকানে একাই ছিলেন ব্যবসায়ী শাহ ফয়জুর রহমান রুবেল (৫৫)। নামাজ শেষে দোকানে ফিরতেই জুহেল মিয়া ক্রেতা সেজে প্রবেশ করে। রঙ কেনার কথা বলে তাকে দোকানের ভেতরে নিয়ে ধারালো ছুরি বের করে শরীরে একের পর এক আঘাত করে। পরে দোকানের ক্যাশ থেকে মাত্র ১,১০০ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনার পর রুবেলের পরিবার সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে। মামলার তদন্তে নামে আসে রহস্যজনক এক সূত্র, একটি রক্তমাখা ২০ টাকার নোট।
পুলিশ সুপার আরো জানান, ঘটনাস্থল থেকে বেরিয়ে আসা সময় খুনি একটি অটোরিকশায় উঠে। চালক পরে জানান, তার যাত্রীর হাতে প্রচুর রক্ত ঝরছিল। সে রিকশাভাড়া দিতে একটি রক্তমাখা নোট দেয়। ওই তথ্যের ভিত্তিতেই পুলিশ হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ ঘেটে হত্যাকারীকে শনাক্ত করে। তার হাতেও ব্যান্ডেজ ছিল, যা খুনের সময় আহত হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। শনাক্ত হওয়ার পর দীর্ঘ অভিযান চালিয়ে ১৭ আগস্ট দুপুরে শ্রীমঙ্গলের লইয়ারকুল গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে জুহেলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার এম. কে. এইচ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে, আর্থিক সংকটে হতাশ হয়ে জুহেল এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। হত্যার দিন সে পুরো শহরে ঘুরে অপেক্ষাকৃত নিরিবিলি দোকান খুঁজছিল। অবশেষে রুবেলের দোকানেই সুযোগ পেয়ে হামলা চালায়। গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জুহেল হত্যার দায় স্বীকার করেছে। সে জানায়, ৬ আগস্ট প্রথমবার শহরে এসেও কোনো সুযোগ না পেয়ে ফিরে যায়। পরদিন আবার ফিরে এসে হার্ডওয়্যার দোকান থেকে কিছু পণ্য কিনে আশপাশে ঘোরাফেরা করে। পরে রুবেলকে একা পেয়ে ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করে।
পুলিশ তার দেওয়া তথ্যমতে হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি, ঘটনাস্থলে ব্যবহৃত মাস্ক ও জুতা, রিকশা ভাড়ায় দেওয়া রক্তমাখা নোট, হার্ডওয়্যার দোকান থেকে কেনা এলবো ও গ্লু উদ্ধার করে।
নিহত রুবেল মৌলভীবাজার শহরের সুপরিচিত ব্যবসায়ী ছিলেন। হত্যার প্রতিবাদে ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ রেখে বিক্ষোভ করেন। জানাজায় অংশ নেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সংসদ সদস্য এম নাসের রহমানসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। তারা এ হত্যার নিন্দা জানিয়ে দ্রুত বিচারের দাবি করেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

