বানরের মমতায় মন্ত্রমুগ্ধ পর্যটক, ভালোবাসা চিরন্তন

বানরের মমতায় মন্ত্রমুগ্ধ পর্যটক, ভালোবাসা চিরন্তন

সবুজে ঘেরা সিলেটের মৌলভীবাজারের মনোমুগ্ধকর লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান। বিরল গাছপালা, পাখির সুর আর গাছের ফাঁক দিয়ে ছিটকে পড়া সূর্যের আলো— সব মিলিয়ে যেন ছবির মতো একটি প্রাকৃতিক স্বর্গ। এই মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্যের মাঝেই ঘটেছে এক বিরল ঘটনা, যা পর্যটকদের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।

বিজ্ঞাপন

উদ্যানের প্রধান গেটের সামনে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় হঠাৎ পড়ে থাকতে দেখা যায় একটি ছোট্ট বিড়ালের বাচ্চা। কে বা কারা ফেলে গেছে জানা যায়নি। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়— গেটের কাছাকাছি থাকা একটি বানর ধীরে ধীরে এগিয়ে এসে বাচ্চাটিকে কোলে তুলে নেয়।

সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাচ্চাটি ছিল বানরের কোলে, যেন এটি নিজের সন্তান। বানরটি কখনো তার লোমে হাত বুলিয়ে আদর করছে, কখনো বুকের কাছে চেপে ধরে বসে থাকছে।

উদ্যানের কাউন্টারে কর্মরত অজানা আহমেদ কামরান জানান, “বানরটি বিড়ালের বাচ্চাটিকে এক মুহূর্তের জন্যও ছাড়ছে না। এমন মমতা আমি আগে দেখিনি। পর্যটকরা এই দৃশ্য দেখে মুগ্ধ— অনেকে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে ছবি তুলেছেন।

তিনি আরও বলেন, প্রতিদিন সকাল থেকে ৭-৮টি বানর গেটের কাছে আসে। পর্যটকরা তাদের খাবার কিনে দেন, আর বানরগুলো খুশি মনে খায়। কিন্তু বিড়ালের বাচ্চার সঙ্গে বানরের এই ঘনিষ্ঠতা একেবারেই বিরল ঘটনা।

সিলেট থেকে বেড়াতে আসা এক পর্যটক রিনা আক্তার বলেন, “এমন দৃশ্য হয়তো জীবনে একবারই দেখা যায়। বানরের চোখে যে মায়া দেখেছি, তা মানুষের মায়ের চোখের মায়ার মতো।”

ঢাকা থেকে আগত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আরাফাত হাসান জানান, “আমরা ভেবেছিলাম শুধু ট্রিপে এসে ছবি তুলবো, কিন্তু এখানে এসে এমন এক ভালোবাসার গল্প দেখবো, তা ভাবিনি।

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান অনন্য বৈচিত্র্য। ১,২৫০ হেক্টর আয়তনের একটি সংরক্ষিত বনাঞ্চল, যেখানে ২৪৬ প্রজাতির উদ্ভিদ, ৪৬ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী, ২০ প্রজাতির সরীসৃপ এবং ৪টি উভচর প্রাণীর বসবাস। এখানে দুর্লভ উল্লুক, চশমাপরা হনুমান, চিতল হরিণ এবং বিরল প্রজাতির পাখিও দেখা যায়।

প্রকৃতির এই অদ্ভুত বন্ধুত্ব— বানরের কোলে নিরাপদ আশ্রয় পাওয়া একটি বিড়ালের বাচ্চা— শুধু পর্যটকদের নয়, উদ্যানকর্মীদের কাছেও অমলিন স্মৃতি হয়ে থাকবে। এটি প্রমাণ করে আদর ভালোবাসা কোনো সীমানা মানে না।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন