৯ শতাংশ সুদে ঋণ পাবেন ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তারা

অর্থনৈতিক রিপোর্টার

৯ শতাংশ সুদে ঋণ পাবেন ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তারা

কুটির, অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (সিএমএসএমই) খাতের উদ্যোক্তাদের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার নতুন পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ তহবিলের আওতায় ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তারা সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ সুদে চলতি মূলধন ঋণ পাবেন। সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, সিএমএসএমই খাত দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। এ খাতটি শ্রমনিবিড় ও স্বল্প পুঁজিনির্ভর হওয়ায় এবং এর উৎপাদনকাল তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় আমদানি বিকল্প পণ্য ও সেবা উৎপাদন, জাতীয় আয় বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম। তবে চাহিদার তুলনায় এ খাতে চলতি মূলধনের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় এর বিকাশ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সিএমএসএমই খাতের উন্নয়নের লক্ষ্যে নতুন এ তহবিল গঠন করা হয়েছে। তহবিলটির মূল উদ্দেশ্য হলো সচল সিএমএসএমই প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় চলতি মূলধন ঋণ বা বিনিয়োগ সরবরাহের মাধ্যমে তাদের পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন, সেবা ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তা করা।

নতুন এ তহবিলের নাম দেওয়া হয়েছে সিএমএসএমই খাতে চলতি মূলধন পুনঃঅর্থায়ন তহবিল। প্রাথমিকভাবে এর মেয়াদ হবে তিন বছর।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, এ তহবিলের আওতায় গ্রাহক বা উদ্যোক্তা পর্যায়ে সর্বোচ্চ সুদের হার হবে ৯ শতাংশ। অন্যদিকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৪ শতাংশ সুদে এ তহবিলের অর্থ গ্রহণ করবে। ব্যাংকগুলোকে প্রতি তিন মাস অন্তর এ সুদ পরিশোধ করতে হবে।

প্রচলিত ব্যাংকের পাশাপাশি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক এবং সাধারণ ব্যাংকের ইসলামিক ব্যাংকিং শাখাগুলোও নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী বিনিয়োগ আকারে এ সুবিধা দিতে পারবে। গ্রাহক পর্যায়ে বিতরণ করা ঋণ বা বিনিয়োগ আদায়ের সম্পূর্ণ দায়দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ওপর থাকবে। ঋণের ঝুঁকি কমাতে ব্যাংকগুলো প্রয়োজনে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী সহ-জামানত নিতে পারবে।

সার্কুলার অনুযায়ী, যেসব সচল সিএমএসএমই প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় চলতি মূলধনের অভাবে পূর্ণ সক্ষমতায় ব্যবসা বা উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছে না, তারা এ তহবিল থেকে ঋণ পাবে।

কোনো উদ্যোক্তা যদি বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্য কোনো পুনঃঅর্থায়ন বা প্রাক্-অর্থায়ন স্কিমের আওতায় চলতি মূলধন ঋণ সুবিধা ভোগ করে থাকেন, তাহলেও তিনি নতুন এ তহবিল থেকে ঋণ নিতে পারবেন। তবে ব্যাংকগুলোকে গ্রাহকের প্রকৃত চাহিদা যাচাই-বাছাই করে নির্ধারিত সীমার মধ্যে ঋণ বিতরণ করতে হবে। তবে ঋণখেলাপিরা এ সুবিধা পাবেন না।

এ ছাড়া ঋণ গ্রহণের পর উদ্যোক্তারা ৩ থেকে ৬ মাস পর্যন্ত গ্রেস পিরিয়ড সুবিধা পাবেন। অর্থাৎ ঋণ নেওয়ার পর প্রথম তিন থেকে ছয় মাস কোনো কিস্তি পরিশোধ করতে হবে না। একই সঙ্গে ব্যাংকগুলো এ ঋণের বিপরীতে উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত কোনো চার্জ, ফি বা কমিশন আদায় করতে পারবে না বলে নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এমই

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন