মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকানদের কাছ থেকে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ছিনিয়ে নিয়েছেন ডেমোক্র্যাটরা। এখন ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে। ফলে বুধবার অস্থির জ্বালানি তেলের বাজারে দরপতন হয়েছে। খবর রয়টার্সের।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম ১.৭৫ ডলার বা ০.৭ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ১০১.৮৫ ডলারে নেমে আসে। দিনের শুরুতে অবশ্য দুই ডলার পর্যন্ত দাম কমেছিল।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুড ফিউচারের দাম ১.১৮ ডলার বা ১.২ শতাংশ কমে ৯৪.৯১ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর আগে উভয় তেলের দামই এক ডলার করে বেড়েছিল।
ইউক্রেন ও ইরান যুদ্ধ অবসানের আলোচনা নিয়ে ব্যবসায়ীদের পর্যালোচনার মধ্যে গত সেশনে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম চার সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছিল।
ফিলিপ নোভার মার্কেট ইনসাইটস বিভাগের প্রধান প্রিয়াঙ্কা সচদেভা বলেন, সামরিক হামলা অব্যাহত রেখে সংঘাত আর না বাড়ানোর কথা বলার মতো ট্রাম্পের পরস্পরবিরোধী সংকেত বিনিয়োগকারীদের জন্য বাজার পর্যালোচনা কঠিন করে তুলেছে। অক্টোবরে তেলের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফনের পর এখন মুনাফা তুলে নেওয়া এবং অনুমাননির্ভর বিনিয়োগ কমিয়ে ফেলাটা যৌক্তিক ছিল।
জাহাজ ট্র্যাকিং প্রতিষ্ঠান ভর্টেক্সার তথ্যানুযায়ী, গত অক্টোবরে এলপিজি ব্যতীত অপরিশোধিত তেল, কনডেনসেট এবং পরিশোধিত জ্বালানিপণ্যের গড় সরবরাহ ছিল প্রতিদিন ১৭.১ মিলিয়ন ব্যারেল। এটা সেপ্টেম্বরের ১৮.৯ মিলিয়ন ব্যারেল থেকে কম হলেও যুদ্ধ-পূর্ববর্তী পর্যায়ের প্রায় তিন-চতুর্থাংশের সমান।
স্যাক্সো ব্যাংকের বিশ্লেষক ওলে হ্যানসেন বলেন, মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেল সরবরাহ অব্যাহতভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর বিষয়টি প্রকৃত মূল্যের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। এটি শোধনাগারগুলোর মুনাফার হারকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করতে পারে, যার চূড়ান্ত ফল হিসেবে জ্বালানির দাম কমতে পারে। তবে ভোক্তারা যাতে এর পূর্ণ সুফল পান, সেজন্য মধ্যপ্রাচ্যের শোধনাগারগুলো থেকে পরিশোধিত পণ্য রপ্তানিও বৃদ্ধি পাওয়া প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত পুনরুদ্ধারের গতি বেশ ধীর। ফলে জ্বালানি তেলের খুচরা মূল্যে স্বস্তি আসতে আরও সময় লাগবে।
আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের তথ্যানুযায়ী, গত ৩০ অক্টোবর শেষ হওয়া সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত ৫.২৭ মিলিয়ন ব্যারেল কমেছে। অথচ রয়টার্সের জরিপে অংশ নেওয়া আটজন বিশ্লেষক গড়ে প্রায় আট লাখ ৮০ হাজার ব্যারেল মজুত বৃদ্ধির পূর্বাভাস দেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

