ডেফারেল সুবিধা নেওয়া কোনো ব্যাংক ২০২৪ সালের জন্য কোনো লভ্যাংশ বিতরণ করতে পারবে না- এমন নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে বেসরকারি ব্যাংকের উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি) এই শর্তের শিথিলতা চেয়ে গত বছর ডেফারেল নেওয়া ব্যাংকগুলো যাতে আগের মতো ডিভিডেন্ড দিতে পারে, সেই দাবি জানিয়েছে।
মঙ্গলবার বিএবি চেয়ারম্যান আবদুল হাই সরকারের নেতৃত্বে কয়েকটি ব্যাংকের চেয়ারম্যান গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের সঙ্গে দেখা করে এ দাবি জানান। এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের চার ডেপুটি গভর্নর, সংশ্লিষ্ট বিভাগের নির্বাহী পরিচালক, পরিচালক ও অন্যান্য কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক ডিভিডেন্ড নিয়ে যে সার্কুলার জারি করেছে, তার বেশকিছু শর্ত শিথিলতার জন্য গভর্নরের সঙ্গে দেখা করতে আসেন চেয়ারম্যানরা। বিশেষ করে গত বছর যারা ডেফারেল সুবিধা নেবে, তারা যেন ডিভিডেন্ড দিতে পারে। এছাড়া খেলাপি ঋণ ১০ শতাংশের বেশি হলে ডিভিডেন্ড দিতে পারবে নাÑ এই শর্ত আরো শিথিল চাওয়া হয়।
জানতে চাইলে বিএবি চেয়ারম্যান আবদুল হাই সরকার আমার দেশকে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন সার্কুলার জারি করেছে। কোনটা ক্ষতি, কোনটা ভালোÑ এটা জানতে চেষ্টা করলাম। সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকগুলোকে সরকার চাচ্ছে কীভাবে ঠিক করা যায়। এজন্য পলিসি শিথিল করছে; আবার চাপাচাপিও করছে। এমন করলে তো হবে না। বিশেষ করে ইসলামি ব্যাংকগুলোতে বেশি সমস্যা।
তিনি বলেন, ‘ডিভিডেন্ট নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন সার্কুলার জারি করেছে। এতে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে যারা ডেফারেল নেবে, তারা ডিভিডেন্ট দিতে পারবে না। এটা নিয়ে আমরা বলেছি আগের মতোই থাকবে। নতুন যেটা করা হয়েছে, সেটা যাতে ২০২৫ সাল থেকে প্রযোজ্য হয়। এ বিষয়ে গভর্নর সম্মতিও দিয়েছেন।’
কেন্দ্রীয় ব্যাংক গত ১৩ মার্চ এক সার্কুলারের মাধ্যমে জানিয়েছে, ২০২৪ সালের সমাপ্ত বছরে লভ্যাংশের ক্ষেত্রে ২০২১ সালের নির্দেশনা মানতে হবে। তবে ওই নির্দেশনায় ডেফারেল নেওয়া ব্যাংকের ৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দেওয়ার যে সুযোগ রাখা হয়েছিল, তা বাতিল করা হয়েছে। ফলে ডেফারেল সুবিধা নেওয়া ব্যাংক ২০২৪ সালের জন্য কোনো লভ্যাংশ বিতরণ করতে পারবে না।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

