মোবাইলে লেনদেন ২৫ লাখ কোটি টাকা ছাড়াবে: গভর্নর

মোবাইলে লেনদেন ২৫ লাখ কোটি টাকা ছাড়াবে: গভর্নর

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, বছরে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ১৭ লাখ কোটি টাকা লেনদেন হচ্ছে। এটা এ বছরেই ২৫ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে, যা সরকারের বাজেটের তিনগুণের মতো। এটা বিশাল অর্জন, যা নিয়ে দ্বিমতের কিছু নেই। সব আর্থিক প্রতিষ্ঠানই এ জায়গায় বিশাল ভূমিকা রেখেছে।

মঙ্গলবার হোটেল সোনরাগাঁ ‘ট্রান্সফর্মিং দ্য পেমেন্ট ল্যান্ডস্কেপ: অ্যান ইরা অব ইভোলিউশন’ শীর্ষক এক অধিবেশনে এ কথা বলেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১৫ সালে চালু হওয়া রিয়েল টাইম গ্রস সেটেলমেন্ট (আরটিজিএস) সিস্টেমের একটি আপডেটেড সংস্করণ চালু করেছে, তা ঘোষণা করা হয়। আপগ্রেড করা আরটিজিএস সিস্টেম এখন সপ্তাহে সাত দিনই লেনদেন করা যাবে।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনে বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেম বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক মো. খায়রুল আনাম বলেন, দেশের ব্যাংক খাতের লেনদেনের ৮৪ শতাংশই ডিজিটালভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এই লেনদেনের ৫৬ শতাংশই হচ্ছে বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ও ২৮ শতাংশ মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) মাধ্যমে। ডিজিটাল লেনদেনের মধ্যে ৬৯ শতাংশ আরটিজিএস সিস্টেমে এবং ১১ দশমিক ৯২ শতাংশ ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের মাধ্যমে হয়।

খাইরুল এনাম বলেন, আরটিজিএস সিস্টেম বর্তমানে বাংলাদেশি টাকা, মার্কিন ডলার এবং ব্রিটিশ পাউন্ডসহ সাতটি মুদ্রায় লেনদেন করা যায়। এখন পর্যন্ত ১১ হাজার ৪৭০টি অনলাইন ব্যাংক শাখা আরটিজিএস নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযুক্ত। এই সিস্টেমটি প্রতিদিন ৪৮ হাজার ৪১০টি লেনদেন সম্পন্ন করে, যার গড় দৈনিক লেনদেনের পরিমাণ ২২ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকা।

অনুষ্ঠানে ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেমের সামগ্রিক চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ সম্পর্ক তুলে ধরা হয়। ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেমের বাধার ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা, ব্যবহারকারীদের অসচ্ছলতা, সঠিকভাবে তথ্যের তত্ত্বাবধান, জালিয়াতি ও প্রতারণা এবং নতুন স্টার্টআপ ও ফিনটেক কোম্পানিগুলোর জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি করার কথা বলা হয়। আগামীর পেমেন্ট সিস্টেমের জন্য যেহেতু পেমেন্টে সিস্টেম দ্রুত পরিবর্তন হয়, তাই নীতিমালাও সে অনুযায়ী গ্রহণ করা, সাধারণ মানুষের মাঝে আর্থিক সাক্ষরতা এবং ডিজিটাল পেমেন্ট সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।

গভর্নর বলেন, বাংলাদেশের আর্থিক খাতের অর্জনগুলো খুবই উল্লেখযোগ্য। এতে আমরা সবাই গর্ববোধ করি। অনেকে আরটিজিএস সম্পর্কে জানেন না। আমি নিজেও না। ২০১৫ সালে সাবেক গভর্নর আতিউর রহমান যখন আরটিজিএস চালু করেছিলেন, সে সময় এটিকে খুব বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তবে পরবর্তীতে আর্থিক লেনদেনের জন্য এটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা প্রমাণ হয়েছে।

তিনি বলেন, গত ক’বছরে আরটিজিএসের মাধ্যমে বিভিন্নরকম পেমেন্ট উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার ৬০ মিলিয়ন থেকে ২৬০ মিলিয়ন হয়েছে। আইবিএফটি ট্রান্সফার গত পাঁচ বছরে সামান্য অ্যামাউন্ট থেকে ৪০ মিলিয়নে উঠে এসেছে। একইসঙ্গে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ১৭ লাখ কোটি টাকা বছরে লেনদেন হচ্ছে। এটা এ বছরেই ২৫ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে, যা সরকারের বাজেটের তিনগুণের মতো। এটা বিশাল অর্জন, যা নিয়ে দ্বিমতের কিছু নেই। সব আর্থিক প্রতিষ্ঠানই এ জায়গায় বিশাল ভূমিকা রেখেছে।

আহসান এইচ মনসুর বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক যে সিস্টেমটা ডেভেলপ করছে, এর আসল বেনিফিশিয়ার সরাসরি ব্যাংক খাত। এর মাধ্যমে কিন্তু অর্থনৈতিক কার্যক্রম অনেকটা উজ্জীবিত করতে পেরেছি। অনেক অর্জন হয়েছে। আপগ্রেডেশনও দরকার ছিল। যেভাবে লেনদেনের ভলিউম বাড়ছে, তাতে আপগ্রেডেশন না করে উপায়ও ছিল না। এটা করতেই হতো। আগামীতে আরো করতে হবে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তিনি বলেন, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টারঅপারেবিলিটি ছাড়া পেমেন্ট সিস্টেমে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। দেশকে এখন মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টারঅপারেবিলিটি পরিষেবা নিশ্চিত করতে হবে, যা বিপুল পরিমাণে লেনদেন সম্পাদনে সহায়তা করবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, পরবর্তী প্রজন্মের আরটিজিএসের বৈশিষ্ট্যগুলো গ্রাহকের সুবিধার্থে বাংলাদেশ ব্যাংক সিস্টেমটি আপগ্রেড করার উদ্যোগ নিয়েছে। ২৪ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে আপগ্রেডেশন সম্পন্ন করা হয়েছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন