কানাডা ও রাশিয়া থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টন মিউরেট অব পটাশ (এমওপি) সার আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এতে মোট ব্যয় হবে ৭০৮ কোটি ৭৫ লাখ ৪ হাজার ৪৯০ টাকা। কৃষি ভর্তুকি খাতের বাজেট থেকে এ অর্থ ব্যয় করা হবে।
বুধবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ সংক্রান্ত চারটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) মাধ্যমে সার আমদানির প্রস্তাবগুলো উপস্থাপন করা হয়।
অনুমোদিত প্রস্তাবগুলোর মধ্যে কানাডা থেকে ৪০ হাজার টন করে দুটি চালানে মোট ৮০ হাজার টন এবং রাশিয়া থেকে ৩৫ হাজার টন করে দুটি চালানে মোট ৭০ হাজার টন সার আমদানি করা হবে।
কানাডা থেকে সপ্তম ও অষ্টম চালানে ৪০ হাজার টন করে মোট ৮০ হাজার টন সার আমদানিতে ব্যয় হবে ৩৭৭ কোটি ৭৯ লাখ ১৪ হাজার ৪০০ টাকা। প্রতিটি চালানের ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮৮ কোটি ৮৯ লাখ ৫৭ হাজার ২০০ টাকা। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে চুক্তির আওতায় কানাডিয়ান কমার্শিয়াল করপোরেশনের কাছ থেকে এসব সার কেনা হবে।
এদিকে, রাশিয়া থেকে নবম ও দশম চালানে ৩৫ হাজার টন করে মোট ৭০ হাজার টন সার আমদানি করা হবে। নবম চালানের জন্য ব্যয় হবে ১৬৫ কোটি ৪ি১ লাখ ৭৫ হাজার ৮৮০ টাকা এবং দশম চালানের জন্য ব্যয় হবে ১৬৫ কোটি ৫৫ লাখ ১৪ হাজার ২১০ টাকা। দুটি চালানে মোট ব্যয় হবে ৩৩০ কোটি ৯৬ লাখ ৯০ হাজার ৯০ টাকা। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের চুক্তির আওতায় রাশিয়ার ফরেন ইকোনমিক করপোরেশনের কাছ থেকে এসব সার কেনা হবে।
একই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরকার টু সরকার (জিটুজি) ভিত্তিতে গম আমদানির লক্ষ্যে দুটি অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে দরপ্রস্তাব নিয়ে সর্বনিম্ন দরদাতার সঙ্গে দরকষাকষি শুরু করার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।
এ ছাড়া আসন্ন অভ্যন্তরীণ আমন সংগ্রহ মৌসুমে খাদ্যশস্য সংরক্ষণ ও বস্তাবন্দী করার জন্য এক কোটি পিস নতুন পাটের বস্তা কিনবে সরকার। এতে ব্যয় হবে ৬৪ কোটি ৪১ লাখ ৮৪ হাজার ৪০০ টাকা। প্রতি পিস বস্তার গড় মূল্য পড়বে ৬৩ টাকা ৪২ পয়সা।
পাশাপাশি কাতারের প্রতিষ্ঠান ‘কাতার এনার্জি ট্রেডিং এলএলসি’ থেকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় অতিরিক্ত এক কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনার প্রস্তাব অনুমোদনের সুপারিশ করেছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রস্তাব অনুযায়ী, আগামী ২৩ ডিসেম্বরের জন্য এ অতিরিক্ত এক কার্গো এলএনজি কেনা হবে। এ ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে বিদ্যমান মূল্যের পরিবর্তে ভিন্ন মূল্য নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট (এমএমবিটিইউ) এলএনজির দাম হবে জাপান-কোরিয়া মার্কার (জেকেএম) বাজারদরের চেয়ে ১০ সেন্ট কম। সরবরাহকারী হিসেবে কাতার এনার্জি ট্রেডিং এলএলসিকে সুপারিশ করা হয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন



-2cb57b.jpg)