জুলাই শহীদ-আহতদের পরিবারের জন্য ২৩৬৪ ফ্ল্যাট নির্মাণ শুরু সেপ্টেম্বরে

জুলাই শহীদ-আহতদের পরিবারের জন্য ২৩৬৪ ফ্ল্যাট নির্মাণ শুরু সেপ্টেম্বরে
প্রতীকী ছবি

জুলাই বিপ্লবে আত্মত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবে শহীদদের পরিবারের জন্য ৮০৪টি এবং আহতদের জন্য ১ হাজার ৫৬০টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করতে যাচ্ছে সরকার। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ এ কাজ শুরু হবে। প্রকল্পটির দরপত্র প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্তমানে মূল্যায়নের কাজ চলছে। গেজেটভুক্ত নিহত ও আহতদের পরিবারের জন্য এসব আবাসিক ফ্ল্যাট তৈরি করা হবে। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর আমার দেশকে এসব তথ্য জানান।

প্রতিমন্ত্রী সোহেল মনজুর বলেন, আমরা আগামী মাসে সুবিধাজনক সময়ে অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু করব। আশা করি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রকল্পটির উদ্বোধন করবেন এবং ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। তিনি বলেন, জুলাই শহীদ ও আহতদের পরিবারের জন্য রাজধানীতে আবাসনের ব্যবস্থা করা সরকারের একটি বড় দায়িত্ব।

বিজ্ঞাপন

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে তাদের আবাসন। ঢাকার মতো একটি ভালো স্থানে তাদের জন্য অ্যাপার্টমেন্ট নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যদি সেপ্টেম্বরে কাজ শুরু করতে পারি, তাহলে সর্বোচ্চ তিন বছরের মধ্যে প্রকল্পটি সম্পন্ন করতে পারব বলে আশা করছি।

তিনি জানান, গেজেটভুক্ত জুলাই শহীদ ও আহতদের পরিবারকে আবাসিক ফ্ল্যাট দিতে সরকার মিরপুরের কালশীতে মোট ৩৩টি ভবন নির্মাণ করবে। এর মধ্যে নিহতদের পরিবারের জন্য ১০ তলাবিশিষ্ট ১২টি ভবন এবং ১৪ তলাবিশিষ্ট আরো ছয়টি ভবন নির্মাণ করা হবে। আর আহতদের জন্য ১৪ তলাবিশিষ্ট ১৫টি ভবন নির্মাণ করাসহ মোট ১ হাজার ৫৬০টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী সোহেল মনজুর বলেন, জুলাইয়ে আত্মত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবেই সরকারের এই উদ্যোগ। তিনি বলেন, তাদের আত্মত্যাগের তুলনায় এটি হয়তো খুব বড় কিছু নয়, কিন্তু আমরা এটিকে সম্মানের একটি নিদর্শন হিসেবে বিবেচনা করি। সরকার শহীদ পরিবার ও আহতদের জন্য ভাতা দিচ্ছে এবং বিভিন্ন ধরনের সহায়তা ও সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে।

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, তিনি ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিকভাবেও তার এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে রয়েছেন। পিরোজপুরে যারা নিহত এবং আহত হয়েছেন তাদের পরিবারের সঙ্গে আমরা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। তাদের বিভিন্ন প্রয়োজনের খোঁজখবর নিচ্ছি।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান রাতারাতি সৃষ্টি হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকার ক্ষমতায় আসার পর অনেক আন্দোলন হয়েছে। নির্বাচন নামে যে নির্বাচনগুলো হয়েছে, সেগুলো প্রকৃত নির্বাচন ছিল না। বিএনপি শুরু থেকেই আন্দোলন শুরু করে এবং তাদের প্রথম বড় দাবি ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহাল। তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জীবদ্দশায়ও এই আন্দোলন চলেছে এবং বিতর্কিত নির্বাচনের ধারাবাহিকতার কারণে পরবর্তী সময়ে তা আরো জোরদার হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরে যখন কোটা আন্দোলন শুরু হয়, তখন বিএনপির ছাত্রনেতারাও সেই আন্দোলনে যুক্ত হন। বর্তমানে এনসিপির নেতা সারজিস ও নাহিদসহ অনেকে পরে স্বীকার করেছেন যে, আমাদের প্রধানমন্ত্রী যখন লন্ডনে ছিলেন, তখন তিনি দিকনির্দেশনা দিয়েছেন, যোগাযোগ রেখেছেন এবং পূর্ণ সমর্থন দিয়েছেন।

সোহেল মনজুর বলেন, আজকের জুলাই বিপ্লব একদিনে হয়নি। এটি দীর্ঘ আন্দোলনের ফল। প্রতিটি সংগ্রামেরই একটি নির্দিষ্ট মুহূর্ত থাকে, যখন সবকিছু একত্রিত হয়।

মাহেন্দ্রক্ষণটা সময় আল্লাহর রহমত বলে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। ছাত্র-জনতার অংশগ্রহণে ওই দিনটা তখন ৫ আগস্ট হলো। কিন্তু এই আন্দোলনের মূল সেই জুলাই আন্দোলন অবশ্যই আমাদের ছাত্র-জনতা বিশেষ করে দেশের সর্বস্তরের মানুষ যেভাবে এটাকে নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল এবং এর কারণে আমরা সেই ফল ঘরে তুলতে পেরেছি।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের দুর্নীতি, দমন-পীড়ন, ‘আয়নাঘর’ এবং গুমের ঘটনায় মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল।

তিনি বলেন, মানুষ তাদের দুর্নীতি, দমন-পীড়ন, ‘আয়নাঘর’ এবং গুমের কারণে কষ্ট পাচ্ছিল। ধীরে ধীরে মানুষ সবকিছু জানতে পারে। বিতর্কিত নির্বাচনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারের বিরুদ্ধে যে প্রতিবাদের প্ল্যাটফর্ম তৈরি হয়েছিল, সেটিই শেষ পর্যন্ত জুলাই আন্দোলনে রূপ নেয়।

জুলাই সনদ নিয়ে সংসদে আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে প্রতিমন্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর পালন করবে সরকার। এটা নিয়ে কিছু রাজনৈতিক দল বিভিন্ন সময়ে বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেছে। তিনি বলেন, আমরা যখন সংসদে জুলাই সনদ নিয়ে আলোচনা করেছি, তখন বিরোধীদল জামায়াতে ইসলামী বিভিন্নভাবে বিষয়টি ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করেছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন