বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আবদুর রউফ তালুকদারসহ ২৫ কর্মকর্তার নামে সেফ ডিপোজিট লকার খুঁজে পায়নি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযান শেষে এ তথ্য জানিয়েছেন দুদকের পরিচালক কাজী সায়েমুজ্জামান।
কাজী সায়েমুজ্জামান বলেন, ‘যে ২৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংকে এসেছিলাম, তাদের নামে লকার নেই। আরো অনেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে। আদালতের অনুমোদনের ভিত্তিতে পরবর্তী অভিযান চালাবে দুদক।’
তিনি বলেন, ‘২৫ জনের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারাই। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাদের অনেকেই এখনো বাংলাদেশ ব্যাংকে কর্মরত, অনেকে এখন চাকরিতে নেই। এখন পর্যন্ত মোট ২৭২টি সেফ ডিপোজিট লকারের সন্ধান পাওয়া গেছে।’
২৫ কর্মকর্তা হলেন- সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোরশেদ আলম; সাবেক উপদেষ্টা আবু ফরাহ মো. নাসের; বিএফআইইউ সাবেক প্রধান মাসুদ বিশ্বাস; সাবেক ডেপুটি গভর্নর কাজী সাইদুর রহমান; ডেপুটি গভর্নর নুরুন নাহার; পরিচালক মো. সারোয়ার হোসেন; যুগ্ম পরিচালক (চট্টগ্রাম) সুনির্বাণ বড়ুয়া; যুগ্ম পরিচালক (চট্টগ্রাম) জোবাইর হোসেন; ব্যাংক পরিদর্শন বিভাগের অনিক তালুকদার; রুবেল চৌধুরী; লেলিন আজাদ পলাশ; অতিরিক্ত পরিচালক মো. আবদুর রউফ; অতিরিক্ত পরিচালক মো. মঞ্জুর হোসেন খান; জেনারেল ম্যানেজার জাকির হোসেন; ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার ইমাম সাঈদ; সাবেক নির্বাহী পরিচালক এসএম মনিরুজ্জামান; যুগ্ম পরিচালক মো. ওয়াদুদ; সাবেক উপপরিচালক মোফাজ্জল হোসেন; সাবেক সহকারী পরিচালক (ক্যাশ) আনোয়ার হোসেন; বাংলাদেশ ব্যাংক ট্রেইনিং একাডেমির সহকারী পরিচালক আমিরুজ্জামান মিয়া; সাবেক ডিজিএম তরুণ কান্তি ঘোষ; সাবেক নির্বাহী পরিচালক শাহ আলম; ডেপুটি গভর্নর ড. হাবিবুর রহমান, সাবেক গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার ও বিএফআইইউয়ের একজন অতিরিক্ত পরিচালক। কর্মকর্তাদের দেওয়া তালিকায় তার নাম দেওয়া নেই।
এর আগে গতকাল রোববার দুপুর সাড়ে ১২টায় দুদকের পরিচালক কাজী সায়েমুজ্জামানের নেতৃত্বে আট সদস্যের একটি দল বাংলাদেশ ব্যাংকের লকারে তল্লাশি চালাতে আসে। আদালতের অনুমতিসাপেক্ষে অনুসন্ধান চালানো হয়।
গত ২৬ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুরের লকারে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার সম্পদের সন্ধান পায় দুদক। সেগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জিম্মায় রয়েছে।
অভিযানের সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের নামে আরো কিছু লকার খুঁজে পায় দুদক। এর মধ্যে যাদের নামে বর্তমানে দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত চলছে, তাদের নামেও লকার থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এ কারণে ওই সব লকারেও তল্লাশি চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক। এই পরিপ্রেক্ষিতে গত ২ ফেব্রুয়ারি দুদক থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরকে চিঠি দেওয়া হয়। কেউ যেন ওই সব লকার খুলতে না পারে, সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানায় দুদক। এর পর থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতিঝিল শাখার লকার আর কাউকে খুলতে দেওয়া হচ্ছে না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান সাংবাদিকদের বলেন, দুদক তালিকা নিয়ে এসেছিল। তারা লকারের তালিকা খুঁজে দেখেছে কিন্তু তালিকাভুক্ত কারো লকার খুঁজে পায়নি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

