ভোজ্যতেলের সংকট কাটেনি

পেঁয়াজ আদা, রসুন ও আলুর দাম বেড়েছে

পেঁয়াজ আদা, রসুন ও আলুর দাম বেড়েছে

সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজ, আদা, রসুন ও আলুসহ বেশ কয়েকটি পণ্যের দাম বেড়েছে। বাজারে বোতলজাত ভোজ্যতেলের সংকট কাটেনি। তরিতরকারির দাম খানিকটা ঊর্ধ্বমুখী। বাজার মনিটরিংয়ে এখনও চোখে পড়ার মতো সরকারের কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই। ফলে আসন্ন রমজানকে সামনে রেখে দাম আরো বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন ক্রেতা ও বিক্রেতারা। গতকাল বৃহস্পতিবার পুরান ঢাকার নয়াবাজার ও কারওয়ান বাজারসহ রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

চালের দাম নতুন করে না বাড়লেও আগের বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে। চাঁদপুর রাইস এজেন্সির মালিক রমিজ উদ্দিন বলেন, কিছুদিন আগে সরু জাতের চাল কেজি প্রতি ৭-৮ টাকা বেড়েছিল, সেই বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে। সরকার ইচ্ছা করলে চালের দাম কমাতে পারে। সরকার বাইরে থেকে বেশি করে চাল আমদানি করলে মিল মালিকরা কারসাজি করার সুযোগ পাবে না। তবে মাহে রমজানে সাধারণত চালের চাহিদা কম থাকে। বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ এখনও স্বাভাবিক হয়নি। খোলা ভোজ্যতেলের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও বোতলজাত সয়াবিনের সংকট চলছে।

বিজ্ঞাপন

কারওয়ানবাজারের আনসার মাঝি স্টোরের স্বত্বাধিকারী আব্দুস সালাম বলেন, খোলা তেলের সরবরাহ ঠিক থাকলেও পাঁচ লিটার সয়াবিন তেলের বোতল সংকট চলছে। আমরা যারা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী দুই থেকে তিন কার্টন কিনে বিক্রি করি ডিলাররা তাদের তেল দিচ্ছে না। বড় ব্যবসায়ীদের কাছে তেল দিচ্ছে। ফলে বাজারে এক ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। সরকার ইচ্ছা করলে এ সংকট কাটাতে পারে। এ প্রসঙ্গে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন জানিয়েছেন, আগামী ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে তেলের বাজার স্থিতিশীল হবে এবং বাজারে সয়াবিন তেলের সংকট কাটবে।

বাজারে দেশি পেঁয়াজের দাম গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিপ্রতি ৫ থেকে ১০ থেকে বেড়ে বর্তমানে মানভেদে ৪৫ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রসুনের দাম ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়ে ২৩০ টাকা, আদা ১০ টাকা বেড়ে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া পাইকারি বাজারে আলুর দাম বেড়ে যাওয়ায় খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে আলুর কেজিপ্রতি ২ টাকা বেড়ে ২০ থেকে ২২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শাকসবজিসহ অন্যান্য কাঁচা পণ্যের দাম স্থিতিশীল রয়েছে।

কারওয়ানবাজারের বিক্রেতা রাসেল মিয়া বলেন, রমজানকে সামনে রেখে পেঁয়াজ আদা রসুন ও আলুসহ বেশ কয়েকটি পণ্যের দাম বেড়েছে। পৃথিবীর সব মুসলিম রাষ্ট্রে রমজানে ভোগ্যপণ্যের দাম কমলেও আমাদের দেশে বাড়ে। বরাবরের মতোই এবারও আগেভাগেই বাজারের ঊর্ধ্বমুখিতা লক্ষ করা যাচ্ছে। ফলে এ বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের বাজার নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ চোখে পড়ার মতো নয়।

এদিকে দেশি মুরগির দাম স্থিতিশীল থাকলেও অন্যান্য জাতের মুরগির দাম কিছুটা বেড়েছে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন বাজারে পাকিস্তানি মুরগি ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা, লেয়ার মুরগি ২৫০ টাকা থেকে ২৮০ টাকায়, ব্রয়লার মুরগির ১৯০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। মাহে রমজানকে সামনে রেখে বেশ কিছু ভোগ্যপণ্যের দাম বেড়েছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন