দেশে দক্ষ প্রশিক্ষক তৈরি, কোর্স কারিকুলাম ও প্রশিক্ষণ ম্যানুয়াল, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের সক্ষমতা, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এবং রপ্তানি বাণিজ্য সম্প্রসারণের জন্য কোরিয়ার সহযোগিতা চেয়েছেন বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম চৌধূরীর (পারভেজ)।
বুধবার বিসিআইর আমন্ত্রণে বাংলাদেশে দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত পার্ক ইয়াং সিকের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ সহযোগিতা চান।
বিসিআইর সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম চৌধূরীর (পারভেজ) সভাপতিত্বে উভয় দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় বিশেষ করে শিল্প ও ব্যবসা ক্ষেত্রে পরস্পরের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সহ-সভাপতি প্রীতি চক্রবতী, পরিচালক চৈতন্য কুমার দে (চয়ন), যেয়াদ রহমান, বাংলাদেশ সিরামিক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিএমইএ) ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মঈনুল ইসলাম।
বিসিআই সভাপতি বলেন, কোরিয়ার মত কারিগরি জ্ঞানে সমৃদ্ধ দেশ থেকে দক্ষ প্রশিক্ষক এনে দেশে প্রশিক্ষক তৈরি করতে চাই যারা পরবর্তীতে সারা দেশে দক্ষ কর্মী ও ব্যবস্থাপক তৈরি করবে এবং দক্ষ জনবলের যে স্বল্পতা আছে তা নিরসন করতে সহায়তা করবে। বিসিআই সভাপতি দেশে দক্ষ প্রশিক্ষক তৈরি, কোর্স কারিকুলাম ও প্রশিক্ষণ ম্যানুয়াল, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের সক্ষমতা, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এবং রপ্তানি বাণিজ্য সম্প্রসারণের জন্য কোরিয়ার সহযোগিতা আহ্বান করেন।
তিনি বলেন আমাদের লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, এগ্রো প্রসেসিং, আইসিটি ইত্যাদি ক্ষেত্রে কোরিয়ান সহায়তা খুবই দরকার। তিনি বলেন কোরিয়া ভাষা শিখারও ভাল সুযোগ সুবিধা দরকার।
এ সময় দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত পার্ক ইয়াং সিক বলেন, বাংলাদেশ ও কোরিয়ার মধ্যে ১৯৭৩ সালে ডিপ্লোমেটিক সম্পর্ক স্থাপনের পর থেকে বাংলাদেশ ও কোরিয়া একত্রে কাজ করে যাচ্ছে। কোরিয়া বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে আগ্রহী।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের ও কোরিয়ার মধ্যে বর্তমানে ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট (ইপিএ) স্বাক্ষরের কাজ চলমান। ইপিএ স্বাক্ষর হলে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে। বাংলাদেশের শিল্প বিল্ডিং ও পোশাক খাত অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের দক্ষতা উন্নয়নের জন্য কোরিয়ার সহায়তায় বর্তমানে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনায় তিনটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে। কোইকা বর্তমানে বাংলাদেশে কর্মীদের টেকনিক্যাল ট্রেইনিং নিয়ে কাজ করছে। বাংলাদেশে কোরিয়ান ব্যবসায়ীরা ভিসা ও কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স জটিলতা ফেস করেন। নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিডিং প্রক্রিয়া বেশ জটিল ও সময় সাপেক্ষ।
সভায় বিসিআই পরিচালক শহিদুল ইসলাম নিরু, জিয়া হায়দার মিঠু, জাহাঙ্গীর আলম, মাহফুজুর রহমান এবং বিসিআই সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

