ব্যাংকগুলো তাদের চলতি হিসাবের বিপরীতে লিয়েন রেখে এতোদিন বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে টিটি ডিসকাউন্টিং সুবিধা (স্বল্পকালীন তারল্য বা নগদ অর্থ সংগ্রহে) নিতো। এখন তা বাতিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে রক্ষিত চলতি হিসাবের স্থিতি লিয়েন রেখে তফসিলি ব্যাংকগুলোর টিটি ডিসকাউন্টিং সুবিধা আর কার্যকর থাকবে না।
সোমবার (৩ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ-সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে এটি কার্যকর হিসেবে গণ্য হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, ১৯৯৪ সাল থেকে তফসিলি ব্যাংকগুলোকে টিটি ডিসকাউন্টিং সুবিধা দেওয়া হচ্ছিল। সে সময়ের নিয়ম অনুযায়ী, অনুমোদিত সীমার ২০ শতাংশ সমপরিমাণ অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকে রক্ষিত ব্যাংকের চলতি হিসাবে লিয়েন হিসেবে সংরক্ষণ করতে হতো। এই অর্থ বিধিবদ্ধ নগদ জমা (সিআরআর) হিসাবায়নের আওতায় আসত না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, বর্তমানে ব্যাংকগুলোর দৈনন্দিন তারল্য চাহিদা পূরণে কল মানি মার্কেট, রেপো, স্ট্যান্ডিং লিকুইডিটি ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) এবং আন্তঃব্যাংক ঋণসহ একাধিক আধুনিক ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে। ফলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে টিটি ডিসকাউন্টিং সুবিধার ব্যবহার প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে।
তবে সুবিধাটি ব্যবহার না করলেও অনুমোদিত সীমার বিপরীতে লিয়েন বহাল থাকায় ওই অর্থ সিআরআর হিসেবে গণনা করা যেত না। এতে ব্যাংকগুলোর রেগুলেটরি রেশিও ব্যবস্থাপনায় অপ্রয়োজনীয় চাপ তৈরি হচ্ছিল বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ পরিস্থিতিতে ব্যাংকিং হিসাবায়ন সহজ করা এবং সময়ের প্রেক্ষাপটে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়া সুবিধাটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

