মূল্যস্ফীতি কমতে শুরু করায় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) পলিসি রেট বা নীতি সুদহার কমানোর পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে মূল্যস্ফীতি লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী না কমা পর্যন্ত পলিসি রেট বা নীতি সুদহারে হাত দিবে না কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
রোববার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে আইএমএফের প্রতিনিধি দলের উদ্বোধনী বৈঠকে এমনটাই জানিয়েছেন গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। বৈঠকে আইএমএফের ১৩ জন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে চার ডেপুটি গভর্নর, সংশ্লিষ্ট বিভাগের ইডি, পরিচালক ও অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।
তিনি বলেন, আইএমএফ বিভিন্ন আর্থিক সূচক নিয়ে আলোচনা করেছেন। এর মধ্যে ট্যাক্স-জিডিপি রেশিও যেই টার্গেট দিয়েছিল সেটা অর্জন হয়নি তারা জানিয়েছেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংক তা স্বীকারও করেছে।
পলিসি রেট বা নীতি সুদহার কমানোর কথা বলেছে আইএমএফ। এর জবাবে গভর্নর জানিয়েছেন, মূল্যস্ফীতি লক্ষ্যমাত্রা পর্যন্ত না কমা পর্যন্ত পলিসি রেট কমানো হবে না।
তারা বলেছে, আগামী জুনের মধ্যে মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ২ শতাংশে নেমে আসবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বলেন, আইএমএফ বলেছে, মূল্যস্ফীতি যেহেতু কমতে শুরু করেছে এবং সেটা যদি সাড়ে ৮ শতাংশে নেমে আসে তবে পলিসি রেট কমানোর বিষয়ে ভাবতে পারে বাংলাদেশ ব্যাংক। সেসঙ্গে বৈদেশিক বিনিময় হার নির্ধারণের বিদ্যমান পদ্ধতি তুলে দিয়ে তা পুরোপুরি বাজারভিত্তিক করার পরামর্শ দেয় সংস্থাটি।
এর জবাবে গভর্নর বলেছেন, কোন অনুমানের ভিত্তিতে নয়, মূল্যস্ফীতি কমার প্রকৃত ডাটা পাওয়ার পরই পলিসি রেটের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আর মূল্যস্ফীতি কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় না আসা পর্যন্ত বিনিময় হারের বিষয়ে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। ৪৭০ কোটি ডলার ঋণের শর্ত পরিপালন নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের দিক থেকে যেসব সংস্কারগুলো রয়েছে, সেগুলোর অগ্রগতি নিয়েও দাতা সংস্থাটি সন্তোষ প্রকাশ করেছে বলে জানান তিনি।
মুখপাত্র বলেন, বিকেলের একটি বৈঠকে দুর্বল ব্যাংকগুলোর তারল্য পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেখানে তারা জানতে চেয়েছে, নতুন করে দুর্বল ব্যাংকগুলোকে তারল্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে কি-না। আবার ১২টি ব্যাংকে যে তারল্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে, তা তো সঠিক নিয়মে দেওয়া হয়নি। ব্যাংকগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি ও এসব ব্যাংক নতুন করে ঋণ দিচ্ছে কি-না তাও জানতে চাওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, একটি ব্যাংক ঈদের আগে তারল্য চেয়েছিল তবে বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের তারল্য সহায়তা দেয়নি। বর্তমানে মাত্র পাঁচটি ব্যাংক তারল্য সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে, অন্যরা সেরে উঠেছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

