শেয়ারবাজারে যারা লুটপাটের সঙ্গে জড়িত ছিল তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। যদি তাদের শাস্তির আওতায় আনা না যায় তাহলে তারা আবারও সক্রিয় হয়ে বাজারে কারসাজি করবে। যেকোনো মূল্যে এদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
বুধবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ব্রোকারেজ অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিএ) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরুর মাহমুদ চৌধুরী এ কথা বলেন।
রাজধানীর নিকুঞ্জে অবস্থিত ডিএসই ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী। ডিবিএ সভাপতি সাইফুল ইসলামের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য রাখেন- চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহমেদ, ডিবিএ’র সাবেক সভাপতি আহমেদ রশীদ লালী, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকী, বিএনপি নেতা জহির উদ্দিন স্বপন, অধ্যাপক রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, ব্যাংকার সারেব সিদ্দিক, ইআরএফ সভাপতি দৌলত আকতার মালা, সিএমজেএফ সভাপতি গোলাম সামদানি।
আমির খসরু মাহমুদ আরও বলেন, কারসাজি চক্রের গোষ্ঠী সাধারণ বিনিয়োগকারীদের পুঁজি লুটপাট করেছে, অনেক বিনিয়োগকারী পুঁজি হারিয়ে আত্মহত্যা করেছে। অনেকে নি:স্ব হয়ে গেছেন। যাদের কারণে এ ঘটনা ঘটেছে তাদের যদি আইনের আওতায় আনতে না পারেন তাহলে এটা বাজারের জন্য ভালো হবে না। একটি শুভ সূচনার জন্য এটা করতে হবে। একই সঙ্গে সেলফ রেগুলেটরি প্রতিষ্ঠান হিসাবে স্টক এক্সচেঞ্জ ও ব্রোকারেজ হাউসগুলোর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
শেয়ারবাজারকে অতীতে কোন সরকার আমলে নেয়নি উল্লেখ করে বিএনপির এ নেতা বলেন, শেয়ারবাজার দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। এটার যে অর্থনৈতিক গুরুত্ব আছে সেভাবে দেখা হয়নি। গত ১৫-১৬ বছরে অর্থনৈতিক গুরুত্বের পরিবর্তে রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ে ব্যবহার করা হয়েছে। আগামীতে বিএনপি যদি সরকার গঠনের সুযোগ পায় তাহলে আমরা শেয়ারবাজারকে গুরুত্ব দিব।
অতীতে রেগুলেশনের নামে নিয়ন্ত্রক সংস্থার অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণের সমালোচনা করে আমির খসরু বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলোকে সেলফ রেগুলেটরি হিসাবে কাজ করতে হবে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা ওয়াচডগ হিসাবে কাজ করা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, গত ১৫ বছরে পুঁজিবাজারের গর্ভন্যান্স প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। যারা এসময়ে দায়িত্বে ছিলেন তারা অনেক দুর্বল কোম্পানির আইপিও অনুমোদন দিয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এবারই প্রথম নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। তবে বর্তমান কমিশন অনভিজ্ঞ হলেও তাদের বিরুদ্ধে এখনও দুর্নীতির কোন অভিযোগ উঠেনি এবং তাদের আন্তরিকতা রয়েছে বলে মন্তব্য করেন সাবেক এ চেয়ারম্যান।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দেশের অর্থনীতির সঙ্গে শেয়ারবাজারের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ালে শেয়ারবাজারও ঘুরে দাঁড়াবে। দেশের অর্থনীতির সূচকগুলো ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে যাচ্ছে। মুদ্রার বিনিময় হার অনেকটা স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে, মূল্যস্ফীতির হারও কমছে, রিজার্ভ বৃদ্ধি পাচ্ছে, ব্যালেন্স অব পেমেন্ট ইতিবাচক, ব্যাংকের সুদের হারও কমছে-অর্থনীতির এসব সূচক আগামীতে একটি ভালো পুঁজিবাজারের পূর্বাভাস দিচ্ছে। কিন্তু বাজারে বিনিয়োগযোগ্য কোম্পানির পরিমাণ খুবই কম। এ অবস্থায় দেশীয় ভালো কোম্পানি ও বহুজাতিক কোম্পানিকে বাজারে নিয়ে আসতে হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

