‘টেক্সটাইল শিল্পে টেকসই উন্নয়ন’-এই স্লোগান নিয়ে ঢাকায় শুরু হয়েছে ১৬তম জেএনজেড ফ্যাব্রিক উইক (২০২৬-২৭ শীত-শরত সংগ্রহ)। দেশের শীর্ষস্থানীয় বস্ত্র প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান জাবের অ্যান্ড জোবায়ের ফ্যাব্রিকস লিমিটেডের উদ্যোগে মঙ্গলবার গুলশানস্থ নুরুল ইসলাম হাউসে শুরু হওয়া মেলা চলবে ১৩ জুলাই পর্যন্ত। এবারের আয়োজনে প্রদর্শিত হচ্ছে ২৩০টিরও বেশি নতুন কাপড়ের পণ্য এবং ৬০টি উদ্ভাবনী ধারণা, যা দেশের ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ক্রেতা, গার্মেন্ট উদ্যোক্তা এবং বস্ত্র গবেষকদের দৃষ্টি কেড়েছে। আয়োজনটি প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলবে।
আয়োজকরা বলছেন, এটি শুধুমাত্র একটি প্রদর্শনীই নয়, বরং বাংলাদেশের টেক্সটাইল খাতের টেকসই উন্নয়ন ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের প্রতিচ্ছবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।
জেএনজেড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে,এবারের ফ্যাব্রিক উইকে প্রাধান্য পাচ্ছে পরিবেশবান্ধব এবং শতভাগ পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপাদানে তৈরি কাপড়। ব্যবহৃত উপাদানের মধ্যে রয়েছে রিকভার, সাইক্লো, সোরোনা, রিজেনএগ্রি, অর্গানিক কটন, কটনা, আনারস ও কলা ফাইবার—যেগুলো প্রাকৃতিকভাবে প্রস্তুত এবং পরিবেশের ওপর কম প্রভাব ফেলে। প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বাস করে, ভবিষ্যতের পোশাকশিল্পে টেকসই উপকরণের চাহিদা উত্তরোত্তর বাড়বে এবং তারা সে লক্ষ্যেই প্রতিটি নতুন পণ্য তৈরি করেছে।
এ বছরের আয়োজনে দেশি-বিদেশি প্রায় ৬৫০ জন অতিথি অংশগ্রহণ করছেন, যার মধ্যে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড প্রতিনিধি, পোশাক ক্রেতা, গবেষক ও টেক্সটাইল উদ্যোক্তা রয়েছেন।
পূর্ববর্তী ফ্যাব্রিক উইকগুলোতেও ব্যতিক্রমী সাড়া মিলেছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ১৫তম ফ্যাব্রিক উইকে প্রায় ৫০০ প্রতিনিধি অংশ নেন, যেখানে ২৪০টি নতুন পণ্য ও ৪০টি উদ্ভাবনী ধারণা উপস্থাপন করা হয়েছিল।
এর আগে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে কটনা ও সোরোনা ফাইবারের মতো টেকসই উপাদানে তৈরি ২০০টি নতুন পণ্য এবং ৫০টি উদ্ভাবন প্রদর্শিত হয়।
বিভিন্ন রঙ, টেক্সচার, ফিনিশ ও ফাইবার সংমিশ্রণে তৈরি কাপড়গুলো ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা এবং এশিয়ার বাজারে বিশেষ চাহিদার সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে রিসাইকেল করা পলিয়েস্টার ও জৈব উপাদানে তৈরি টেকসই ফ্যাব্রিক নতুন প্রজন্মের পোশাকের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

