বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর কাজী ছাইদুর রহমানের বিরুদ্ধে রিজার্ভ দিয়ে গঠন করা রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল বা ইডিএফ ফান্ডের ৭০০ কোটি টাকা নয়ছয় করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুসন্ধানে তিন সদস্যের একটি টিম গঠন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক। অনুসন্ধানের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে এ সংক্রান্ত সব তথ্য সংস্থাটিকে পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে। গত ২৬ জানুয়ারি চিঠি দেয় দুদক।
চিঠিতে রিজার্ভ থেকে কোন কোন গ্রাহক বা প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দেওয়া হয়েছে, তার তথ্য দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএফআইইউর অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক অডিট অথবা স্পেশাল অডিট হয়ে থাকলে তার প্রতিবেদন পাঠানোর কথা বলা হয়েছে।
চিঠিতে এই ঋণের সুবিধাভোগী বেশ কয়েকটি গ্রুপের নাম উল্লেখ করে তাদের তথ্যও পাঠানোর কথা বলা হয়েছে। এগুলো হলো- বিসমিল্লাহ গ্রুপ, ক্রিসেন্ট গ্রুপ, আকিজ গ্রুপ, এসবি পুণ্য গ্রুপ, এসকিউ বিরিছিনাদা, মেসার্স এসকিউ সেলসিয়াস, লেনি ফ্যাশনস, নর্থপোল বিডি, কাদেনা স্পোর্টসওয়্যার, নর্ম আউটফিট, ভালটেক্স ইন্টারন্যাশনাল, মোডিস্টি সিইপিজেড, মেসার্স এস এন ফ্যাশন, আনোয়ার ফ্যাশন, শিলা এগ্রো ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, মেসার্স রিপন ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, এ অ্যান্ড বি আউটওয়্যার, এমএন নিটওয়্যার, পদ্মা ওয়্যারস ও মডিস্টি বাংলাদেশ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. কবির আহম্মদ আমার দেশকে বলেন, সব তথ্যই সফটওয়্যারবেইজ। এখানে কেউ ইচ্ছা করলে কোনো কিছু করতে পারে না।
অভিযোগের বিষয়ে কাজী ছাইদুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি আমার দেশকে বলেন, এটি সঠিক না। সঠিক না বলেই ফোনটি দ্রুত কেটে দেন।
পণ্য রপ্তানির জন্য কাঁচামাল আমদানিতে রপ্তানিকারকদের ব্যাক টু ব্যাক এলসির আওতায় কম সুদে ডলারে ঋণ দিতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে ১৯৮৯ সালে গঠিত হয় ইডিএফ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদনসাপেক্ষে এই ঋণ পরিশোধে সর্বোচ্চ ২৭০ দিন সময় পান উদ্যোক্তারা। কিন্তু আলোচ্য প্রতিষ্ঠানগুলো সময়মতো তা পরিশোধ করেনি।
সূত্রগুলো বলছে, অনিয়ম, জালিয়াতি ও যোগসাজশের মাধ্যমে বেশিরভাগ ইডিএফ ঋণ বের করে নেওয়ায় তা সময়মতো ফেরত আসছে না। বিশেষ করে ঋণের বিপরীতে পণ্য রপ্তানি হলো কি না বা ওই রপ্তানির বিপরীতে আয় দেশে ফিরে এল কি না, তা নিশ্চিত না হয়েই গুটিকয়েক গ্রাহককে বারবার ইডিএফ সুবিধা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এর মাধ্যমে ইডিএফ সুবিধার অপব্যবহার করা হয়েছে। আর সময়মতো রপ্তানি না হওয়ায় এবং রপ্তানি মূল্য দেশে না আসায় ঋণ ফেরত পাওয়া সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে এই ঋণের বিপরীতে রপ্তানি আয় দেশে ফেরত না আসায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর অনুকূলে টাকায় ফোর্সড ঋণ সৃষ্টি করেছে ব্যাংকগুলো।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে বলা হয়, এই তহবিলের সুবিধাভোগী শীর্ষ ৪০টি প্রতিষ্ঠানের কাছে দীর্ঘদিন ধরে ৬০০ মিলিয়ন বা ৬০ কোটি ডলারের মতো আটকে রয়েছে। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ঢাকার এখতিয়ারভুক্ত ২০টি প্রতিষ্ঠানের কাছে রয়েছে প্রায় ৫৬ কোটি ডলার। আর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চট্টগ্রাম কার্যালয়ের এখতিয়ারভুক্ত ২০ রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের কাছে রয়েছে তিন কোটি ডলারের মতো।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

