আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

বেসরকারি ঋণে প্রবৃদ্ধি কমে ৬ শতাংশের ঘরে

রোহান রাজিব

বেসরকারি ঋণে প্রবৃদ্ধি কমে ৬ শতাংশের ঘরে

বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধির গতি আরো কমেছে। জানুয়ারিতে প্রবৃদ্ধি কমে হয়েছে ছয় দশমিক শূন্য তিন শতাংশ, যা ডিসেম্বরে ছিল ছয় দশমিক ১০ শতাংশ; যা গত ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি এর আগে কখনোই এত নিচে নামেনি। এমনকি করোনার সময়ও এই প্রবৃদ্ধি সাড়ে সাত শতাংশের ওপরে ছিল।

খাত সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিরতা মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদহার ঊর্ধ্বমুখী। এমন পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগে যাচ্ছেন না। তাই ধারাবাহিকভাবে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি কমছে। তবে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ায় পরিস্থিতি উন্নতি হবে বলে জানান তারা।

বিজ্ঞাপন

২০২৬ সালের জানুয়ারি-জুনের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রানীতি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কঠোর মুদ্রা পরিস্থিতি, বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকারের বাড়তি ঋণ গ্রহণ এবং নতুন বিনিয়োগে অনিশ্চয়তার কারণে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ঐতিহাসিকভাবে নিম্নপর্যায়ে নেমে এসেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রানীতিতে ডিসেম্বর পর্যন্ত ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল সাত দশমিক দুই শতাংশ। এ সময় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ছয় দশমিক ১০ শতাংশ। আগামী জুন পর্যন্ত বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি প্রাক্কলন করা হয়েছে সাড়ে আট শতাংশ।

সরকারি ঋণগ্রহণের ফলে ‘ক্রাউডিং আউট’ও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে সরকারের নিট ঋণ দাঁড়ায় ৫০ হাজার ৭৮২ কোটি টাকা, যা সংশোধিত বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রার ৪৩ শতাংশ। ব্যাংকগুলো যখন সরকারকে বেশি ঋণ দেয়, তখন সীমিত তারল্যের পরিবেশে বেসরকারি খাতের জন্য তহবিল কমে যায়।

ব্যাংকগুলো বাড়তে থাকা খেলাপি ঋণের চাপেও রয়েছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ রেকর্ড ছয় লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছায়, যা মোট ঋণের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। উচ্চ খেলাপি ঋণ ব্যাংকের মূলধন ক্ষয় করে, প্রভিশনিংয়ের চাপ বাড়ায় এবং নতুন ঋণ অনুমোদনে ব্যাংকগুলোকে আরো সতর্ক করে তোলে।

তারল্য সংকট ও দুর্বল আমানত প্রবৃদ্ধি পরিস্থিতিকে আরো জটিল করেছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতিসূচক সুদহার ১০ শতাংশে উন্নীত করেছে। ফলে বাণিজ্যিক ঋণের সুদহার প্রায় ১৫ শতাংশে পৌঁছেছে। উচ্চ সুদের কারণে বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা নতুন ঋণ নিতে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন