পলাশে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ ছিনতাই, দুই সপ্তাহেও গ্রেপ্তার নেই

পলাশে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ ছিনতাই, দুই সপ্তাহেও গ্রেপ্তার নেই

নরসিংদীর পলাশে প্রকাশ্যে মারধর করে টাকা ও স্বর্ণালংকার ছিনতাইয়ের ঘটনায় প্রায় দুই সপ্তাহ পার হলেও চক্রের কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ছিনতাইকারীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও তাদের গ্রেপ্তার না হওয়ায় শঙ্কিত ও ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগীরা।

বিজ্ঞাপন

জানা যায়, গত ৩ আগস্ট বিকেল সাড়ে ২টার দিকে পলাশের মাঝেরচর গ্রামের প্রবাসী শাহরিয়ার হোসেন মানিকের স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার মেঘলা তার দেবর কাদির মিয়াকে সঙ্গে নিয়ে একটি চার্জার ফ্যান কেনার জন্য চরনগরদী বাজারের পূর্ব পাশে রিজিক এন্টারপ্রাইজ নামের একটি দোকানে যান। তারা দোকানে প্রবেশের পর পেছন থেকে ২-৩টি মোটরসাইকেলে করে ৪-৬ জন অজ্ঞাত যুবক সেখানে প্রবেশ করে। একপর্যায়ে যুবকরা কাদির মিয়াকে জোরপূর্বক দোকান থেকে বাইরে নিয়ে যায়। পরে তাকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে মারধর করে টাকা-পয়সা নিয়ে যায়।

এরপর সুমাইয়া আক্তার মেঘলা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় করে বাড়ির উদ্দেশে রওয়ানা হলে ছিনতাইকারী চক্রটি তার পিছু নেয়। একপর্যায়ে তারা অটোরিকশাটির নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং সুমাইয়াসহ সেটিকে চরনগরদী বাজার থেকে চরসিন্দুর-পাঁচদোনা সড়কের বাড়ারচর গ্রামীণ ব্যাংকের পাশের যাত্রীছাউনিতে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে শ্লীলতাহানির হুমকি দেওয়া হয় এবং বিভিন্ন অশালীন কথাবার্তা বলে তা ভিডিও ধারণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী। পরে তার গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন দিতে বলা হয়। এতে রাজি না হওয়ায় তার গায়ে হাত দেওয়ারও চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে তার গলায় থাকা প্রায় এক ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইনটি নিয়ে যায় চক্রটি। যাওয়ার সময় তাকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় পরদিন ৪ আগস্ট পলাশ থানায় অভিযোগ করেন সুমাইয়া আক্তার মেঘলা। অভিযোগের পর পলাশ থানার ওসি শাহেদ আল মামুনের নির্দেশে এসআই মোজাম্মেল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। একই সঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. কলিমুল্লাহর নির্দেশে নরসিংদী ডিবি পুলিশের এসআই জসিমও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

তবে অভিযোগ দায়েরের পর প্রায় দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার হয়নি। উদ্ধার হয়নি ছিনতাই হওয়া স্বর্ণের চেইন ও টাকা-পয়সাও।

অভিযোগটির তদন্ত কর্মকর্তা পলাশ থানার এসআই মোজাম্মেলের বিরুদ্ধে ছিনতাইকারী চক্রের আলমগীর নামের এক সদস্যের বাড়িতে গিয়ে তাকে পেয়েও গ্রেপ্তার না করার অভিযোগও উঠেছে।

সুমাইয়া আক্তার মেঘলা জানান, ঘটনার পর বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গোপনে লোক লাগিয়ে ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যদের ছবি, নাম ও পরিচয় সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছেন তারা। কিন্তু এখনো চেইন উদ্ধার কিংবা কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। এতে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পলাশ থানার এসআই মোজাম্মেল বলেন, মামলাটি আমি তদন্ত করছি। তাদের নাম, পরিচয় ও ঠিকানা নিশ্চিত করতে সময় লেগেছে। তবে যতটুকু জেনেছি, তারা জেলাব্যাপী ছিনতাই করে থাকে। আলমগীর নামে যে ছিনতাইকারী রয়েছে, সে জামাই-শ্বশুর মিলেও এ কাজ করে।

তিনি আরো বলেন, তাদের কপাল ভালো, আমি তাদের এখনো গ্রেপ্তার করতে পারিনি। তবে শিগগিরই তাদের গ্রেপ্তার আশ্বাস দেন তিনি।

নরসিংদী ডিবি পুলিশের ওসি মো. আবুল কায়েছ আকন্দ বলেন, বিষয়টি দেখার জন্য অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নির্দেশ দিয়েছেন। এ জন্য ডিবি পুলিশের এসআই জসিমকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি বিষয়টি দেখছেন। চক্রটি জেলার বিভিন্ন স্থানে ছিনতাই করে বেড়ায় বলে তিনি শুনেছেন। তাদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

জেডএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন