ছাগলনাইয়ায় টমটমের দাপটে বাড়ছে দুর্ভোগ

ছাগলনাইয়ায় টমটমের দাপটে বাড়ছে দুর্ভোগ

ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলায় আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে ব্যাটারিচালিত টমটমের সংখ্যা। একসময় সহজ ও স্বল্প খরচের যাতায়াতের মাধ্যম হিসেবে জনপ্রিয় এই যানবাহন এখন পৌর শহরের অন্যতম বড় সমস্যায় পরিণত হয়েছে। প্রতিদিনের যানজট, বিদ্যুতের ওপর অতিরিক্ত চাপ ও ট্রাফিক বিশৃঙ্খলার পাশাপাশি বেপরোয়া গতির কারণে ঘটছে একের পর এক দুর্ঘটনা।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের কার্যকর নজরদারির অভাবে পরিস্থিতি দিন দিন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।

ছাগলনাইয়া বাজার, জিরো পয়েন্ট, থানা মোড়, হাসপাতাল সড়ক, কলেজ রোড ও সিএনজি স্ট্যান্ড এলাকায় সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শত শত টমটম চলাচল করে।

স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রের দাবি, পৌরসভা ও আশপাশের এলাকায় বর্তমানে প্রায় দেড় থেকে দুই হাজার টমটম চলাচল করছে। তবে এসব যানবাহনের জন্য নেই কোনো নির্ধারিত স্ট্যান্ড বা পার্কিং ব্যবস্থা। ফলে সড়কের ওপরই টমটম রেখে যাত্রী ওঠানামা করানো হয়। এতে রাস্তার কার্যকর প্রস্থ কমে গিয়ে সামান্য চাপেই দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়।

বিশেষ করে অফিস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছুটির সময়ে জিরো পয়েন্ট, বাজার, সিএনজি স্ট্যান্ড, থানা মোড় ও হাসপাতাল সড়কে যানজট চরম আকার ধারণ করে। কয়েক মিনিটের পথ যেতে ১৫ থেকে ২০ মিনিট সময় লাগে। অনেক সময় অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের গাড়িও যানজটে আটকা পড়ে। টমটমের সঙ্গে সিএনজি অটোরিকশা, মোটরসাইকেল এবং পণ্যবাহী পিকআপ ও কনটেইনারের এলোপাতাড়ি পার্কিং পরিস্থিতি আরো জটিল করছে।

ব্যবসায়ী আবদুল কাদের মোল্লা বলেন, বাজারের সামনে টমটম ও সিএনজি অটোগুলো যেখানে-সেখানে দাঁড়িয়ে যাত্রী তোলে। রাস্তার অর্ধেক অংশ দখল করে রাখায় সারাদিন যানজট লেগেই থাকে। এতে ব্যবসারও ক্ষতি হচ্ছে।

স্কুলশিক্ষার্থী লুবাবা কবির বলেন, সর্বোচ্চ পাঁচ মিনিটের পথ পার হতে কোনো কোনো দিন ১০ থেকে ২০ মিনিট সময় লাগে। যানজটের কারণে সময়মতো স্কুলে পৌঁছানো কঠিন হয়ে যায়।

এদিকে টমটমের ব্যাটারি চার্জ দিতে পৌর শহর ও আশপাশে গড়ে উঠেছে অসংখ্য চার্জিং পয়েন্ট। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিপুলসংখ্যক ব্যাটারি চার্জ দেওয়ায় বিদ্যুতের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ছে। সন্ধ্যা ও রাতে অনেক এলাকায় ভোল্টেজও কমে যায়।

ছাগলনাইয়া পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম বলেন, ছাগলনাইয়ায় পিক আওয়ারে বিদ্যুতের চাহিদা ২১ থেকে ২২ মেগাওয়াট। কিন্তু বরাদ্দ পাওয়া যায় ১০ থেকে ১৭ মেগাওয়াট।

বেপরোয়া গতি ও অদক্ষ চালকদের কারণে বাড়ছে দুর্ঘটনাও। গত ৬ আগস্ট ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সমিতি বাজার এলাকায় বাসচাপায় টমটমের যাত্রী ছায়েদুল হক ফনি (৩২) নিহত হন। এ ঘটনায় তার চাচা আলম ও টমটমচালক আহত হন। সম্প্রতি উত্তর পানুয়া এলাকায় দ্রুতগতির টমটমের ধাক্কায় ইসরাত জাহান সাবিরা (৬) নামে এক মাদরাসাশিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়।

রিকশাচালক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, অনেক চালকের বয়স কম। অনেকে মাদকাসক্ত এবং অনেকের কোনো প্রশিক্ষণ নেই। তারা প্রতিযোগিতা করে গাড়ি চালায়। তাই দুর্ঘটনা বাড়ছে।

পৌরসভার লাইসেন্স পরিদর্শক জাহাঙ্গীর আনসারী বলেন, একসময় পৌরসভায় প্রায় ৬০০ রিকশা চলত। লাইসেন্স ফি থেকে মোটা অংকের রাজস্ব পাওয়া যেত। কিন্তু টমটমের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে রিকশাগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। বেশিরভাগই রিকশায় মোটর লাগিয়ে টমটম বানিয়েছে।

ছাগলনাইয়া থানার ওসি মোহাম্মদ আবু তাহের বলেন, ট্রাফিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ট্রাফিক পুলিশ নিয়োগের আবেদন করা হয়েছে। জেলা থেকে ট্রাফিক পুলিশ নিয়োগ হলে সড়কে বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দা ফারহানা পৃথা বলেন, টমটম চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে প্রশাসন কাজ করছে। নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড, পার্কিং ও রুট ব্যবস্থাপনার বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জেডএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...