আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

চাহিদা কম থাকায় নিম্নমুখী নিত্যপণ্যের দাম

সরদার আনিছ

চাহিদা কম থাকায় নিম্নমুখী নিত্যপণ্যের দাম
ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র মাহে রমজানের শুরুতে যেসব পণ্যের চাহিদা বেড়ে হঠাৎ দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে গিয়েছিল, ওই সব পণ্যের দাম কমতে শুরু করেছে। গত সপ্তাহের তুলনায় কোনো কোনো পণ্যের দাম অর্ধেকেরও বেশি কমেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, চাহিদা কমে ও সরবরাহ বেড়ে দাম কমেছে লেবু, শসা, বেগুন, কলা, ছোলা ও পেঁয়াজসহ বেশ কিছু পণ্যের। আগামী কয়েক দিনে দাম আরো কমতে পারে। এ ছাড়া মুরগি ও ডিমের দামও কমেছে। একই সঙ্গে সবজির দামেও নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ করা গেছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর নয়াবাজার, হাতিরপুল ও কারওয়ান বাজার ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রমজানের শুরুতে রাজধানীর বাজারে সবচেয়ে বেশি উত্তাপ ছড়িয়েছিল লেবু, শসা, বেগুন, কলা, ছোলা ও পেঁয়াজ। সপ্তাহের ব্যবধানে সেই উত্তাপ এখন আর নেই। পণ্যের চাহিদা কমার পাশাপাশি সরবরাহ বেড়েছে।

বিজ্ঞাপন

ব্যবসায়ী আব্দুল কাদের বলেন, রমজানের কয়েক দিন আগে থেকে দু-তিন রমজান নাগাদ পেঁয়াজের দাম ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। সেই পেঁয়াজ এখন ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, দাম আরো কমতে পারে।

খুচরা বিক্রেতা শাহানাজ বেগম বলেন, রমজানের শুরুতে লেবুর হালি ১৬০ টাকা নাগাদ বিক্রি হয়েছে। এখন লেবুর হালি ৩০ থেকে ৪০ টাকায়ও পাওয়া যাচ্ছে। মাঝারি আকারের লেবু ৫০ থেকে ৬০ টাকা। একইভাবে রমজানের শুরুতে ৭০ থেকে ১২০ টাকার কলার হালি এখন ২০ থেকে ৫০ টাকা, ১২০ টাকার বেগুন এখন ৭০ থেকে ৮০ টাকা, ১৮০ টাকার কাঁচামরিচ এখন ১০০ থেকে ১২০ টাকা, ৯০-৯৫ টাকার ছোলা এখন ৮০ থেকে ৮২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে রমজানের শুরুতে আপেল, কমলা, মাল্টা, আঙুর, আনারসহ প্রায় সব ধরনের আমদানি করা ফল বাড়তি দামে বিক্রি হলেও সপ্তাহের ব্যবধানে তা কেজিতে ২০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। দেশি ফলের ক্ষেত্রেও একই চিত্র। গতকাল রাজধানীর বাবুবাজার, নয়াবাজার, গুলিস্তান ও কারওয়ান বাজারে আপেল প্রতি কেজি ২৬০ থেকে ৩৫০ টাকা, ফুজি আপেল ২৮০-৩২০ টাকা, সবুজ আপেল ২৮০-৩৫০ টাকা, কমলা ২৬০ থেকে ৩৫০ টাকা, মাল্টা ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, নাশপাতি ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, সাদা আঙুর ৪৮০-৫৫০ টাকা, কালো আঙুর ৫৫০-৬০০ টাকা ও আনার ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এছাড়া ড্রাগন ফল প্রতি কেজি ১৮০-২০০ টাকা এবং সফেদা ১৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

কাঁচাবাজারে সবজির দামও আগের তুলনায় কমেছে। প্রতি কেজি করলা ১৬০ টাকার বদলে ১২০ টাকা, ২০ টাকার আলু ১৪-১৫ টাকা, ১০০ টাকার লাউ ৫০ থেকে ৬০ টাকা, ১০০ টাকার টমেটো ৪০ থেকে ৬০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। সবচেয়ে বেশি কমেছে ডিমের দাম। গতকাল কারওয়ান বাজারে ডিমের ডজন ৯০ থেকে ৯৫ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। ব্রয়লার মুরগির দামও কমেছে। রমজানের শুরুতে দাম বেড়ে ব্রয়লার মুরগি ২০০ থেকে ২২০ টাকা বিক্রি হলেও বর্তমানে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

চিনি ও সয়াবিন তেলের দাম কিছুটা কমেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। মায়ের দোয়া স্টোরের ইমাম উদ্দিন বাবলু আমার দেশকে বলেন, রমজান মাসের শুরুতে সব সময় পণ্যের চাহিদা বেড়ে দাম কিছুটা বেড়ে যায়, কয়েক দিন গেলে তা কমে যায়। এবারও সপ্তাহের ব্যবধানে চাহিদা ও বেচাবিক্রি কমে মুদি পণ্যের দাম নিম্নমুখী রয়েছে।

এদিকে এবার রমজানের শুরুতে বাজার তদারকিতে সরকারের মনিটরিং ব্যবস্থা ঢিলেঢালা থাকলেও নতুন সরকার গঠনের পর থেকে তা কঠোর হয়েছে। জেলা প্রশাসন, ভোক্তা অধিকার, র‌্যাবের মোবাইল টিম, বিএসটিআইসহ সরকারের বিভিন্ন সংস্থা রমজানের বাজার নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে, এর প্রভাব পড়েছে বাজারে।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) বলছে, বাজার মনিটরিং-ব্যবস্থা সঠিকভাবে পরিচালিত হলে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব । এ ক্ষেত্রে সরকারকে আন্তরিক হতে হবে।

ক্যাবের সিনিয়র সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন আমার দেশকে বলেন, নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখা নতুন সরকারের জন্য একটা বড় চ্যালেঞ্জ। চলতি বছর নির্বাচনের কারণে সরকারি নজরদারির অভাবে রমজানের শুরুতে অসাধু ব্যবসায়ীরা সক্রিয় হয়ে ওঠে। ফলে বেশ কিছু পণ্যের দাম বেড়ে গেলেও নতুন সরকারের পদক্ষেপে তা নিয়ন্ত্রণে এসে গেছে। তদারকি সঠিকভাবে চলতে থাকলে হঠাৎ দাম বাড়াতে পারবে না কেউ, সিন্ডিকেট-ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...