কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক নতুন অর্থায়নে ৯৬৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যায়নে পৌঁছে বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান এআই স্টার্টআপে পরিণত হয়েছে। ক্লড (Claude) চ্যাটবটের নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, সর্বশেষ বিনিয়োগ পর্বে তারা ৬৫ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছে। এর মাধ্যমে তারা প্রতিদ্বন্দ্বী ওপেনএআইকে ছাড়িয়ে গেছে।
একসময় বৈশ্বিক এআই প্রতিযোগিতায় তুলনামূলক ছোট খেলোয়াড় হিসেবে বিবেচিত হলেও সাম্প্রতিক সময়ে অ্যানথ্রপিকের দ্রুত উত্থান প্রযুক্তি খাতে বড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে গত বছরের শেষ দিকে শক্তিশালী কোডিং সহায়ক টুল চালুর পর বড় বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ক্লডের ব্যবহার ব্যাপকভাবে বেড়েছে। ফলে প্রতিষ্ঠানটি এখন এআই শিল্পের অন্যতম প্রভাবশালী শক্তিতে পরিণত হয়েছে।
নতুন এই মূল্যায়ন এআই শিল্পে ক্ষমতার ভারসাম্যে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। একই সঙ্গে এটি ওপেনএআই ও স্পেসএক্সের মতো প্রতিষ্ঠানের সম্ভাব্য আইপিও পরিকল্পনাতেও প্রভাব ফেলতে পারে।
অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে, তাদের সর্বশেষ অর্থায়ন পর্বে নেতৃত্ব দিয়েছে অল্টিমিটার ক্যাপিটাল, ড্রাগোনিয়ার, গ্রিনওকস এবং সিকোইয়া ক্যাপিটাল। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান অর্থ কর্মকর্তা কৃষ্ণা রাও এক ব্লগ পোস্টে বলেন, “বিশ্বজুড়ে আমাদের ক্রমবর্ধমান গ্রাহকগোষ্ঠীর কাছে ক্লড দিন দিন অপরিহার্য হয়ে উঠছে। ক্লড কোড ও কোওয়ার্কের মতো টুলগুলোকে আরও শক্তিশালী ও ব্যবহারবান্ধব করতে আমরা নিরলস কাজ করছি।”
অন্যান্য অনেক এআই প্রতিষ্ঠানের তুলনায় অ্যানথ্রপিক নিজেকে তুলনামূলক নিরাপত্তাকেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে তুলে ধরেছে। প্রতিষ্ঠানটির এক সহ-প্রতিষ্ঠাতা সম্প্রতি পোপ লিওর প্রকাশিত এআইবিষয়ক দীর্ঘ ঘোষণাপত্রে অংশ নেন, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করা হয় এবং প্রযুক্তিটির ওপর নিয়ন্ত্রণ জোরদারের আহ্বান জানানো হয়।
এদিকে অ্যানথ্রপিক বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ পেন্টাগনের সঙ্গে আইনি বিরোধেও জড়িত। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি তাদের ক্লড প্রযুক্তি গণ নজরদারি বা মানবীয় নিয়ন্ত্রণ ছাড়া প্রাণঘাতী স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ব্যবস্থায় ব্যবহারের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সরকার সামরিক অভিযানে ক্লড ব্যবহার করেছে।
সম্প্রতি সাইবার নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে অ্যানথ্রপিক তাদের নতুন ‘মিথোস’ মডেল প্রকাশ স্থগিত করলে বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও আলোচনার জন্ম দেয়। বিভিন্ন দেশ আর্থিক ব্যবস্থা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। পরে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের আহ্বান জানান।
শুধু প্রযুক্তি নয়, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতেও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে অ্যানথ্রপিক। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এআই নিয়ন্ত্রণবিষয়ক নীতির পক্ষে অবস্থান নেওয়া প্রার্থী ও সুপার প্যাকগুলোতে প্রতিষ্ঠানটি বিপুল অর্থ ব্যয় করছে। এআই নিয়ন্ত্রণে সরকারি তদারকি বাড়ানোর পক্ষে অবস্থান নিয়ে অ্যানথ্রপিক প্রযুক্তি খাতের অনেক প্রতিষ্ঠানের বিপরীত অবস্থান নিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, অ্যানথ্রপিকের এই বিপুল মূল্যায়ন প্রমাণ করছে যে জনসাধারণের মধ্যে এআই নিয়ে সংশয় থাকলেও খাতটিতে এখনো বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ প্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। এর আগে মার্চ মাসে ওপেনএআই ১২২ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করে ৮৫২ বিলিয়ন ডলার মূল্যায়নে পৌঁছেছিল। প্রতিষ্ঠানটি চলতি বছর ১ ট্রিলিয়ন ডলারের আইপিও আনার পরিকল্পনাও করতে পারে বলে জানা গেছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


