পশুর হাটে কাদা-পানিতে নাজেহাল ক্রেতা-বিক্রেতা

মাহমুদুল হাসান আশিক

পশুর হাটে কাদা-পানিতে নাজেহাল ক্রেতা-বিক্রেতা

জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট। তবে বৃষ্টির প্রতিকূল আবহাওয়ায় রাজধানীর পশুর হাটগুলোতে নেমে এসেছে চরম ভোগান্তি। একদিকে কাদাপানিতে একাকার, অন্যদিকে এসব অব্যবস্থাপনার সমাধানে নেই কোনো ব্যবস্থা।

মঙ্গলবার রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়ি হাট ঘুরে দেখা যায়, গতকাল সোমবারের মতোই বৃষ্টির কারণে আজও হাটের সামনের সড়কগুলোতে গরু নিয়ে এসে বসে আছেন বেপারী ও খামারিরা। হাটের ভেতরের সড়কগুলোতে কাদা আর গোবরে একাকার।

বিজ্ঞাপন

hat4

অপরদিকে হাটের ভেতরের মাঠে দেখা যায় কোথাও হাঁটুপানিতে দাঁড়িয়ে আছে গরু, আবার কোথাও দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে ক্লান্ত হয়ে কাদাতেই শুয়ে পড়ছে পশুগুলো। কোথাও আবার দেখা যায় বৃষ্টিতে ভিজে অসুস্থ হয়ে পড়া গরুকে ওষুধ খাওয়াচ্ছেন খামারি। এসব কারণে বেপারীদের মধ্যে দেখা গেছে হাট ব্যবস্থাপনা নিয়ে চরম অসন্তোষ।

হাটে গিয়ে দেখা যায়, বৃষ্টির কারণে অনেক স্থানেই পানি জমে থইথই করছে।

কুষ্টিয়ার আলমডাঙ্গা থেকে আসা আসাদুল ব্যাপারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পানির মধ্যে গরু দাঁড়িয়ে আছে, মানুষ কাছে আসছে না। দূর থেকে জিজ্ঞেস করে চলে যাচ্ছে। গরুর কাছে এসে গরুর প্রতি মায়া না জন্মালে কেউ গরু কিনবে কীভাবে?

একই অবস্থার কথা জানান জামালপুরের ব্যাপারী মো. ফরিদ মিয়া। তিনি বলেন, হাটের ইজারাদারেরা এত টাকা দিয়ে হাট নিলেও বৃষ্টিতে পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা করেননি। ব্যবস্থাপনা একদম বাজে। বৃষ্টির দিনে ভালো প্রস্তুতি দরকার ছিল। বৃষ্টিতে ভিজে আমার গরু অসুস্থ হয়ে পড়ায় প্রায় ৩ হাজার টাকার ওষুধ খাওয়াতে হচ্ছে। ফরিদপুরের মোসাব্বের রহমান বাবু জানান, হাটের অব্যবস্থাপনার কারণে ক্রেতারা ভেতরে ঢুকতে চাইছেন না। কাদা-পানি মাড়িয়ে কে আসবে ভেতরে? এ কারণে গরু বিক্রির সুযোগও কমে যাচ্ছে। আগামী বছর থেকে এই হাটে আসতে হলে দশবার বেপারীরা ভাববেন।

বৃষ্টি উপেক্ষা করে হাতে ছাতা নিয়ে কাদা-পানি মাড়িয়েই হাটে এসেছেন অনেক ক্রেতা। তাদের কথা, গরু তো কিনতে হবেই, অজুহাত দিয়ে লাভ কী? তবে হাটের ব্যবস্থাপনা আরো ভালো হলে আমাদের জন্য সুন্দর হতো। বাজারে ছোট ও মাঝারি গরুর চাহিদা তুঙ্গে। ক্রেতারা বলছেন অন্যান্য দিনের তুলনায় আজকে বাজারে দাম কম। বৃষ্টির পানির কারণে হয়তো বিক্রেতারা দাম ছেড়ে দিচ্ছেন। মিরপুর থেকে আসা ক্রেতা মো. আসাদ মিয়া জানান, বৃষ্টি উপেক্ষা করে কাদা মাড়িয়ে এলাম। বিক্রেতারা আজ গরু ছাড়তে শুরু করেছেন। তুরাগ থেকে আসা আমিনুল ইসলাম জানান, বৃষ্টিতে ছাতা নিয়ে বাবা-মাসহ এলাম। কিন্তু এসে দেখি বাজারের খুবই বাজে অবস্থা। বাজেটের মধ্যে আজ গরু পাওয়া যাচ্ছে। গতকালও এসেছিলাম, তখন একটু কম পাওয়া যাচ্ছিল।

hat1

বনানী থেকে গরু কিনতে আসা আসাদুল্লাহ শেখ আমার দেশকে বলেন, আমরা এক লাখ ৫৬ দিয়ে গরুটা কিনলাম। ভালোই লাগছে। দামাদামি করে কিনতে পারলে ভালোই পাওয়া যায়। আমরা বৃষ্টি থামার সাথে সাথেই চলে আসছি। কাদায় পায়ের অবস্থা খারাপ। তবে গরু কিনতে পেরে আমরা সবাই খুশি।

নাটোরের সিংড়া থানা থেকে আসা খামারি আব্দুস সবুর এসেছেন দুটি দেশি জাতের মহিষ নিয়ে। তিনি জানান, ‘আমরা এই হাটে আর কখনোই আসব না। পুরো হাটেই অব্যবস্থাপনা। যথাসময়ে হাট প্রস্তুত হয়নি। এরপর যা-ও কিছুটা প্রস্তুত করেছে, সেখানে পানি নেমে যাওয়ার বা সরানোর কোনো ব্যবস্থা নেই। দুইটা মহিষ যে দরে কিনেছি, ছয় মাস লালন-পালন করার পরও এখন সে দরেই বিক্রি করতে হচ্ছে। হাটের অব্যবস্থাপনার জন্যই আমাদের এই অবস্থা।’

অব্যবস্থাপনার বিষয়ে কথা বলার জন্য উত্তরার দিয়াবাড়ি হাটের ইজারাদার এস এফ কর্পোরেশনের স্বত্বাধিকারী ও ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. শেখ ফরিদ হোসাইনকে একাধিকবার কল করা হলেও তা রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে তাকে ক্ষুদেবার্তা পাঠালেও তিনি জবাব দেননি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন