চুক্তি নবায়নসহ চার দফা দাবিতে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ভবন ঘেরাও করে অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন টিসিবির ডিলাররা এবং বিভিন্ন জেলা থেকে আগত নবায়নবঞ্চিত ডিলাররা।
মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে রাজধানীর টিসিবি ভবনের সামনে অবস্থান নেন তারা এবং অনতিবিলম্বে ডিলারশিপ নবায়ন না করা হলে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন। এ সময় ‘টিসিবির কালো হাত ভেঙ্গে দাও, চুক্তি নবায়ন কর করতে হবে’ বলেও স্লোগান দিতে দেখা যায়। ৯ আগস্ট একই ধরনের কর্মসূচি পালন করেছিলেনতারা।
এর আগেও গত ২৩ জুলাই থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ২০২৫ ও ২০২৬ সালের মেয়াদোত্তীর্ণ চুক্তি নবায়নের দাবিতে আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করেছিলেন ডিলাররা, যেখানে তারা জেলা প্রশাসকের তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী নবায়নযোগ্য ডিলারদের সঙ্গে অবিলম্বে চুক্তি নবায়নের দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী, জেলা প্রশাসক ও টিসিবি চেয়ারম্যান বরাবর একাধিক স্মারকলিপি দিয়েছিলেন। মঙ্গলবারের বিক্ষোভ সেই আন্দোলনেরই সর্বশেষ ধাপ।
অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ডিলারদের হাতে বিভিন্ন দাবি সম্বলিত ব্যানার-ফেস্টুন দেখা যায় এবং তারা চুক্তি নবায়নের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডিলারদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে, একপর্যায়ে ‘মানি না, মানব না’ সহ বিভিন্ন স্লোগানে পুরো এলাকা মুখর হয়ে ওঠে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তারা।
ডিলারদের দাবি, ২০২৬ সালের জুনে যেসব ডিলারের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে, তাদের পুনর্নবায়ন বন্ধ রাখার নির্দেশ প্রত্যাহার করতে হবে এবং ২০২৫ সালের জুনে নবায়নবঞ্চিতদেরও নবায়নের আওতায় আনতে হবে। তাদের অভিযোগ, সংশোধিত নীতিমালার কারণে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ ডিলাররা নবায়নের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, যাতে একদিকে আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে টিসিবির পণ্য বিতরণ ব্যবস্থাও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কর্মসূচিতে থাকা ডিলাররা বলেন, তারা কোনো অনৈতিক সুবিধা চাইছেন না, বরং নিয়ম মেনে দীর্ঘদিন ধরে সেবা দেওয়া ডিলারদের নবায়নের সুযোগ চাইছেন এবং কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার বিরোধিতা করছেন না তারা—তবে একতরফাভাবে চুক্তি বাতিল না করে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান তারা।
টিসিবি ডিলারদের পক্ষে প্রতিনিধি মো. বিল্লাল হোসেন বলেন, পুরোনো ডিলারদের পুনরায় নবায়ন করে ব্যবসা ও জীবিকা নির্বাহের সুযোগ দিতে হবে। গত বছর কিছু ডিলারের নবায়ন করা হলেও ২০২৬ সালে যাদের নবায়নের কথা ছিল, তাদের বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন, দুর্নীতি বা অনিয়মের প্রমাণিত অভিযোগ থাকলে তদন্ত করে বাদ দেওয়া যেতে পারে, তবে স্বচ্ছতার সঙ্গে ব্যবসা করা ও যাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই তাদের ডিলারশিপ বহাল রাখতে হবে। এ ছাড়া ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরও টিসিবিতে একজন পরিচালকের দায়িত্বে থাকা এবং টিসিবির চেয়ারম্যানের অপসারণও দাবি করেন তিনি, পাশাপাশি স্পষ্ট করেন যে তারা সরকারের বিরুদ্ধে নন, বরং স্বচ্ছতার সঙ্গে ব্যবসা করার সুযোগ চান।
ডিলারদের চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- ২০২৬ সালের জুনে মেয়াদোত্তীর্ণ ডিলারদের পুনর্নবায়ন বন্ধ রাখার নির্দেশ প্রত্যাহার ও ২০২৫ সালের নবায়নবঞ্চিতদের নবায়ন; অভিযুক্ত ডিলারদের সরাসরি ব্যবস্থা না নিয়ে কারণ দর্শানো ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ; টিসিবি প্রণীত ‘ডিলার নিয়োগ ও ব্যবস্থাপনা নীতিমালা ২০২৫’ এবং পরবর্তী সংশোধনী বাতিল; এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ধারাবাহিকতা রক্ষায় অভিজ্ঞ-সফল ডিলারদের চুক্তি পূর্ণাঙ্গভাবে নবায়নের নির্দেশনা।
জানা গেছে, নীতিমালার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে ৫০০ ডিলার উচ্চ আদালতে মামলা করেছেন এবং আরও সাড়ে সাত হাজার ডিলার মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তারা বৈষম্য দূরীকরণে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপও চেয়েছেন।
উল্লেখ্য, সারাদেশে প্রায় ৭০ লাখ ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সরকার টিসিবির ভর্তুকিমূল্যের পণ্য বিক্রি করে, যা পরিচালিত হয় প্রায় সাড়ে সাত হাজারের বেশি নিবন্ধিত ডিলারের মাধ্যমে। ডিলার নিয়োগ ও ব্যবস্থাপনা নীতিমালা (সংশোধিত) ২০২৫ সম্প্রতি জারি হওয়ার পর থেকেই এই বিতর্ক ও আন্দোলন চলছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


