রাজধানীর নিউ মার্কেট এলাকায় চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের শিকার ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটনের খুনিরা এখন গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) নজরদারিতে। ঘটনার ১৫ দিন পেরিয়ে গেলেও কেউ গ্রেপ্তার না হওয়ায় জনমনে প্রশ্ন থাকলেও ডিবি বলছে, খুনিদের পালানোর পথ রুদ্ধ হয়ে আসছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, খুনিদের ‘মোটামুটি একটি ছকের ভেতর’ নিয়ে আসা সম্ভব হয়েছে এবং যেকোনো মুহূর্তে তাদের গ্রেপ্তার করা হতে পারে।
মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শফিকুল ইসলাম এই অগ্রগতির কথা জানান।
ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর থেকে বিভিন্ন তত্ত্ব ও তথ্য বিশ্লেষণ করে তদন্ত এগোচ্ছে। তিনি বলেন, “আমরা কোনো বিষয়ে ছাড় দিচ্ছি না। ঘটনার পর মিডিয়াতে নানা কথা এসেছে, সেগুলো আমরা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করেছি। খুনিদের আমরা মোটামুটি একটা ছকের ভিতরে নিয়ে এসেছি এবং শনাক্তও করেছি।” তবে তদন্তের স্বার্থে তাদের অবস্থান কিংবা পরিচয় সম্পর্কে বর্তমানে কিছু জানানো সম্ভব নয় বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
জানা গেছে, গত ২৮ এপ্রিল রাত ৮টার দিকে নিউ মার্কেট এলাকায় মোটরসাইকেল আরোহী দুজন মাস্ক পরিধানকারী ব্যক্তি টিটনকে গুলি করে। ঘটনার পরপরই স্বজনরা নিউ মার্কেট থানায় আট থেকে নয়জন অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে ‘পিচ্চি হেলাল’ , ‘কাইল্যা বাদল’ ও ‘দাগারি রনির’ মতো শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নাম উল্লেখ করা হয় এবং হত্যাকাণ্ডের পেছনে বসিলার গরুর হাটের লিজ নিয়ে আধিপত্য দ্বন্দ্বকে কারণ হিসেবে দাবি করা হয়।
ঘটনার ১৫ দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে না পারায় সমালোচনা চলছিল। এ প্রসঙ্গে ডিবি প্রধান বলেন, হত্যাকারীরা মোটরসাইকেলযোগে রায়ের বাজার পর্যন্ত এলাকায় গেছে। সেখান থেকে আর ট্রেস পাওয়া যাচ্ছিল না। তবে শনাক্তের প্রক্রিয়া শেষ বলে ইঙ্গিত দিয়ে তিনি জানান, গ্রেপ্তার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
পুলিশের এই অভিযানকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে ডিবি প্রধান জানান, টিটন হত্যার ঘটনায় বিদেশি যোগসাজশ আছে কিনা সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদি বিদেশে অবস্থানরত কোনও মাস্টারমাইন্ডের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে ইন্টারপোলের মাধ্যমে তাদের গ্রেপ্তারে উদ্যোগ নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তদন্ত দল ইতোমধ্যে ঘটনাস্থলের আশপাশের ৩০টির বেশি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করেছে।
নিহত খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন ২০০১ সালে ঘোষিত ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর একজন ছিলেন। তার ভগ্নিপতি শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমন এবং তারা দুজনেই মোহাম্মদপুর কেন্দ্রিক কুখ্যাত হারিছ-জোসেফ গ্রুপের সদস্য হিসেবে পরিচিত ছিলেন। দীর্ঘ সময় পর তার এই হত্যাকাণ্ড আন্ডারওয়ার্ল্ডের পুরনো মেরুকরণকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে।
বিশেষ অভিযানে ১১ দিনে গ্রেপ্তার ৫৬৮
টিটন হত্যার পাশাপাশি ঢাকা শহরের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গত ১ মে থেকে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে ডিএমপি। গত ১১ দিনে এই অভিযানে মোট ৫৬৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শফিকুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে বিস্তারিত তথ্য দিয়ে বলেন, “গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ডিবির কাছে থাকা ‘চাঁদাবাজের তালিকা’ থেকে ১৫৪ জন মূল চাঁদাবাজ ও তাদের ১৩২ জন সহযোগী রয়েছে। এর বাইরে ২৬১ জন ছিনতাইকারী, ১৮ জন চোরাকারবারি ও মাদক ব্যবসায়ী রয়েছেন।”ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং তা আরও জোরদার করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এই ডিবি প্রধান। বিশেষ করে আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে জন্য গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
এএস
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

