রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে নেওয়া মানব পাচারকারী চক্রের হোতা গ্রেপ্তার

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে নেওয়া মানব পাচারকারী চক্রের হোতা গ্রেপ্তার

বিদেশে আকর্ষণীয় বেতনে চকলেট ফ্যাক্টরি, ক্লিনার অথবা বাবুর্চির কাজের প্রলোভন দেখিয়ে বিদেশে নেওয়া হয়। কিন্তু প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ না দিয়ে, সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়ে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য বাধ্য করত। এমন চক্রের হোতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডির টিএইচবি (মানব পাচার প্রতিরোধ) শাখা।

গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম মুহাম্মদ আলমগীর হোছাইন। গত ১২ জুন রাতে চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আলমগীর চট্টগ্রামের লোহাগড়া উপজেলার আমতলী মাঝেরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

বিজ্ঞাপন

গতকাল শুক্রবার সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন খান জানান, এই চক্রের সদস্যরা রাশিয়ায় মাসে দুই লাখ থেকে আড়াই লাখ টাকা বেতনে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ১০ জনকে প্রথমে ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরব পাঠায়। সেখানে তাদের ওমরাহ হজ করানোর পর রাশিয়ায় নিয়ে এক সুলতানের কাছে বিক্রি করে দেয়। সুলতান তাদের দাস হিসেবে রাশিয়ার সৈনিকদের কাছে হস্তান্তর করে।

সেখানে তাদের সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়ে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য বাধ্য করে। এতে অনিচ্ছা প্রকাশ করলে ভুক্তভোগীদের শারীরিক-মানসিক নির্যাতন করা হয়। খাবার বন্ধ করে দেওয়ার মাধ্যমে তাদের মানসিক শক্তি ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে তারা বাধ্য হয়ে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।

যুদ্ধে নাটোরের সিংড়ার হুমায়ুন কবির নামে এক ব্যক্তি নিহত এবং ঢাকার কেরানীগঞ্জের আমিনুল নামে একজন গুরুতর আহত হয়েছে। এর মধ্যে নরসিংদীর পলাশ থানার বাসিন্দা আকরাম হোসেন প্রশিক্ষণ ক্যাম্প থেকে পালিয়ে যান। পরে তিনি নিজ ব্যবস্থাপনায় গত ২৬ জানুয়ারি বাংলাদেশে ফিরে আসেন। ফিরে এসে তিনি অন্য ব্যক্তির পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তার কাছে তথ্য পেয়ে যুদ্ধাহত আমিনুলের স্ত্রী ডিএমপির বনানী থানায় ২০১২ সালের মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা করেন। গ্রেপ্তার আলমগীরকে আদালতে সোপর্দ করা হলে ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

তদন্তকালীন সিআইডি জানতে পারে, একইভাবে দেশের বাইরে পাঠানো ১০ জনের আরেকটি দল সৌদি আরবে অবস্থান করছে। রাশিয়া নিয়ে জোরপূর্বক যুদ্ধে অংশগ্রহণ করানোর বিষয়ে জানাজানি হওয়ায়, তারা রাশিয়া যেতে অস্বীকার করেছে এবং তাদের পাসপোর্ট কেড়ে নেওয়া হয়েছে। তাই তারা সৌদি আরবে কোনো কাজ করতে পারছে না এবং দেশেও ফিরতে পারছে না।

এর আগে গত ৫ ফেব্রুয়ারি রাতে নেপালে পালিয়ে যাওয়ার সময় মানব পাচারকারী চক্রের অন্যতম সদস্য রাজধানীর দক্ষিণখান থানার আশকোনা হজক্যাম্প এলাকার ফাবিহা জেরিন তামান্নাকে সিআইডির টিএইচবি শাখার একটি টিম শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার ফাবিহা ড্রিম হোম ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস লিমিটেডের অংশীদার।

সিআইডি পাচার করা নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করছে। একই সঙ্গে মানব পাচারের এই নেটওয়ার্ক পুরোপুরি ভেঙে দেওয়ার পাশাপাশি নিবিড় তদন্ত এবং গ্রেপ্তার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন